ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে বাঁশ দিয়ে মারধরের ঘটনায় জড়িত ঠিকাদারের গাড়ির চালক মো. বিল্লাল হোসেন ধরা পড়েছে। রোববার রাতে পুলিশ ও র্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে চট্টগ্রামের চানগাঁও এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
মো. বিল্লাল হোসেন মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার ২ নম্বর আসামি। আজ সোমবার নবীনগর থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয় তাকে।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিল্লালের ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।’
এর আগে, প্রকৌশলীকে মারধরে জড়িত থাকার অভিযোগে ঠিকাদারের ম্যানেজার ফোরকান মিয়াকে আটক করা হয়। ঠিকাদার মো. লোকমান মিয়াকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান ওসি।
গত ১৩ এপ্রিল নবীনগরের শিবপুরে এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলামকে মারধের করে ঠিকাদার ও তার লোকজন। সেখানে একটি সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা হয়। বাঁশ নিয়ে প্রকৌশলীকে মারতে ধাওয়া করার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় থানায় একটি মামলা করেন হামলার শিকার এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম। এতে ঠিকাদার লোকমান হোসেন ও তার গাড়ি চালক মো. বিল্লাল হোসেন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়। ওইদিন দুপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি বিশেষজ্ঞ দল জেলার নবীনগরে মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করার সময় প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনা হয়।
থানায় দেওয়া এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নিম্নমানের কাজ পরিদর্শনে বাধার সৃষ্টি করতে ধাওয়া করে মারধর করা হয় উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুলকে। নিম্নমানের কাজের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে লোকমান হোসেন এলাকার শক্তি দেখান এবং প্রকৌশলীদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।
তরিকুল ইসলাম গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ঠিকাদার লোকমান ও তার ড্রাইভার বিল্লালসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তরিকুল এবং অন্য প্রকৌশলীদেরকে লাঠি নিয়ে তাড়া করেন। এসময় তরিকুলের পায়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে এবং ইট দিয়ে ঢিল মেরে আহত করা হয়। এসময় তরিকুলকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়।
এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহীর বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার এই কাজটি নেন জেলা সদরের বাসিন্দা মেসার্স লোকমান হোসেন নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী লোকমান হোসেন।
কাজ শুরুর পর থেকেই কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। সেকারণে কাজটি দেখতে চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের কর্মকর্তা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহ আলমগীর ও আহম্মদ আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী তরুণ কুমার বৈদ্য সেখানে আসেন। তাদের সঙ্গে সেখানে যান নবীনগর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস আলম এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমান মজুমদার ও মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম।



