সড়ক নির্মাণে রড ছাড়াই চলছিল ঢালাইয়ের কাজ। পাথর-সুড়কিও ছিল নিম্নমানের। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে একটি সড়ক নির্মাণ কাজে এমন অনিয়মে ফুঁসে ওঠেন এলাকাবাসী।
অনিয়ম দেখে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কাজ বন্ধ করে দিলে, ঠিকাদার ও তার লোকজনের হাতে লাঞ্ছিত হন এক প্রকৌশলী। এ ঘটনায় মামলা হলে গ্রেপ্তার করা হয় দুজনকে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজের তদারকিতে ছিলেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন।
কাজ শুরুর পর থেকেই ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সড়ক ভরাটে নির্বিচারে কাটা হয় স্থানীয়দের জমি। এরপর সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজে বাধা দেয় এলাকাবাসী।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘রডগুলো আলগা। মানে ভেতরে এল সিস্টেম করে দেয়নি।’
আরেকজন বলেন, ‘প্রথম দিক থেকেই ওরা নিম্নমানের কাজ করেছে। ভিম ঠিকমতো দেয়নি। মোটা রডের বদলে দিয়েছে চিকন রড।’
স্থানীয় আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘রাস্তার মাঝখানে বালু ভরাটের অর্ডার রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার রাস্তার জমি ছেড়ে পাশের জমি থেকে মাটি কেটে ভরাট করেছে। ’
অভিযোগ পেয়ে এলজিইডির কর্মকর্তাদের নিষেধের পরও কাজ চালিয়ে যান ঠিকাদার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘অনিয়ম বন্ধের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঠিকাদার রাতের বেলায় কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। এবং রাতের বেলা কাজ চালানোর অভিযোগ পেয়ে আমি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ও সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে সাইটে পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দিই। তাকে চিঠি দিই। কিন্তু তিনি নির্দেশনা অমান্য করেন।’
গত ১৩ এপ্রিল সড়কটির নির্মাণকাজ পরিদর্শনে যায় এলজিইডির প্রতিনিধি দল। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামকে বাঁশ নিয়ে তাড়া করেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন ও তার লোকজন। এ ঘটনায় মামলা হলে, গ্রেপ্তার করা হয় ঠিকাদারের গাড়ি চালক বিল্লাল ও ম্যানেজার ফোরকানকে। তবে এখনো পলাতক ঠিকাদার লোকমান।



