বর্ষার আগেই চাঁদপুরের মেঘনা পাড়ে শুরু হয়েছে ভাঙন আতঙ্ক। বিশেষ করে হাইমচরের গাজীনগর এলাকায় বালু দস্যুদের অবৈধ বালু উত্তোলনে ধসে গেছে রক্ষা বাঁধের একাংশ। ভিটেমাটি রক্ষা নিয়ে শঙ্কায় স্থানীয়রা। মতলব উত্তরের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রক্ষায় দ্রুত সংস্কার ও রিভার ড্রাইভ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মেঘনা পাড়ে যখন সূর্য ডোবে, তখন কেবল দিন শেষ হয় না, চাঁদপুরের নদী পাড়ের হাজারো মানুষের বেঁচে থাকার স্বপ্নও যেন তলিয়ে যায়। হাইমচরের গাজীনগর এলাকায় সম্প্রতি বালুদস্যুদের থাবায় এক রাতেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ১২০ মিটার এলাকা। পৈতৃক ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় ক্ষুব্দ স্থানীয়রা।
স্থানীয় এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘হাইমচরের ছয়টা ইউনিয়নের মধ্যে চারটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুস্কৃতিকারীরা মাটি কেটে নিয়ে যায়, ফলে নদী ভাঙে। কারো কোনো বিচার হয় না।’
আরেক স্থানীয় বলেন, ‘ভাঙতে ভাঙতে আমাদের চারটি ইউনিয়ন সম্পূর্ণভাবে নদীর সাথে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের বাসস্থান হারিয়েছি, তাঁদের চিহ্ন ও কবরস্থান হারিয়েছি। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হারিয়েছি।’
ভাঙন আতঙ্ক কেবল হাইমচরে নয়, মেঘনা-ধনাগোদাবেষ্টিত মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচটি পয়েন্ট এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে। এখলাসপুর ও বকুলতলা এলাকায় ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।
চাঁদপুর পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, চাঁদপুর হাইমচর উপজেলার গাজীনগর নামক স্থানে গত ৬ তারিখ দিবাগত রাতে কিছু অসাধু বালু ব্যবসায়ী বালু উত্তোলনের ফলে আমাদের প্রতিরক্ষা কাজের ১২০ মিটার লঞ্চিং অ্যাপ্রোন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাৎক্ষণিক আমরা খবর পেয়ে পুলিশের সহায়তায় যারা বালু উত্তোলন করছিলো তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় এনেছি, বর্তমানে এটা আইনি প্রক্রিয়াধীন।’
মো. জহুরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘চাঁদপুর মেঘনা নদীর ডান তীরবর্তী ঈশানবালা ও আলুবাজার ফেরিঘাট এলাকায় নদী ভাঙন আছে, সে ক্ষেত্রে আমরা একটি ডিপিভি নিয়েছি। ডিপিভি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ জায়গাটি আমরা নদী ভাঙন থেকে বাঁচাতে পারব।’
চাঁদপুর মেঘনা-ধনাগোদা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, ‘মেঘনা নদী এবং ধনাগোধা নদীর পাড় ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধের জন্য আমাদের পাঁচটি প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি, বর্ষা মৌসুমের আগে ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো শেষ করব। পরবর্তীতে বর্ষা মৌসুমের শেষে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।’



