বর্ষার আগেই চাঁদপুরের মেঘনা পাড়ে শুরু হয়েছে ভাঙন আতঙ্ক। বিশেষ করে হাইমচরের গাজীনগর এলাকায় বালু দস্যুদের অবৈধ বালু উত্তোলনে ধসে গেছে রক্ষা বাঁধের একাংশ। ভিটেমাটি রক্ষা নিয়ে শঙ্কায় স্থানীয়রা।
মতলব উত্তরের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রক্ষায় দ্রুত সংস্কার ও রিভার ড্রাইভ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মেঘনা পাড়ে যখন সূর্য ডোবে, তখন কেবল দিন শেষ হয় না, চাঁদপুরের নদী পাড়ের হাজারো মানুষের বেঁচে থাকার স্বপ্নও যেন তলিয়ে যায়।
হাইমচরের গাজীনগর এলাকায় সম্প্রতি বালুদস্যুদের থাবায় এক রাতেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ১২০ মিটার এলাকা। পৈতৃক ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় ক্ষুব্দ স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী এক বাসিন্দা বলেন, ‘বেরিবাঁধ রক্ষা না হলে পুরো মতলববাসী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখন আশা করি এই বেরিবাঁধ কীভাবে বাঁচানো যায় সরকার সেই ব্যবস্থা করবে সরকার।’
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘বেরিবাঁধ পুনঃনির্মাণ করা এবং সেখানে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। যাতে আগামী দিনে এইরকম বালু খেকোরা এখান থেকে বালু উত্তোলণ করতে না পারে। সেজন্য পাহাড়ার ব্যবস্থা করা।’
ভাঙন আতঙ্ক কেবল হাইমচরে নয়; মেঘনা-ধনাগোদা বেষ্টিত মতলব উত্তর উপজেলার ৫টি পয়েন্ট এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে। এখলাসপুর ও বকুলতলা এলাকায় ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ (পওর) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘মেঘনা নদীর ডান তীরবর্তী আলুবাজার ফেরিঘাট এলাকায় নদী ভাঙন আছে। সেক্ষেত্রে আমরা একটা বিস্তারিত কর্ম পরিকল্পনা (ডিটিপি) দিয়েছি। এটি মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
চাঁদপুর মেঘনা-ধনাগোদা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, ‘স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধের জন্য আমাদের পাঁচটি প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে। আমাদের যে জিও ব্যাগ রয়েছে, সেগুলো ডাম্পিং করে আমরা ওই স্থানগুলো প্রোটেক্টেড করি। প্রোটেক্টেড করে আমরা ব্লক বিছানোসহ ডাম্পিং করি।’
চরাঞ্চল ও মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর ভাঙন রোধে সংসদ অধিবেশনেও টেকসই বাঁধের দাবি তুলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।
মেঘনা পাড়ের মানুষের প্রত্যাশা, এবার হয়তো বালুদস্যুদের দৌরাত্ম্য থামবে এবং স্থায়ী বাঁধের মাধ্যমে রক্ষা পাবে তাদের আশ্রয়স্থল।



