চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় সাগরিকা ফ্লাইওভারে কাউসার হামিদ প্রকাশ আবু কাউছার নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, কাউসার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা এবং তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ওই যুবকের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। এ ছাড়া ফ্লাইওভারে হেঁটে গিয়ে নিজেই গলায় ফাঁস দেন তিনি।
আজ বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। এ সময় তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। নগরীর পশ্চিম ফিরোজ শাহ এলাকায় পরিবারের সাথে বসবাস করতেন ওই যুবক। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার পাহাড়তলী এলাকায় সাগরিকা ফ্লাইওভার থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, ওই যুবক নিষিদ্ধ ঘোষিত আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক কায়সার আহমেদ এবং তাঁকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
তবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আলমগীর হোসাইন জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সাগরিকা ফ্লাইওভার এসে ওই যুবক আত্মহত্যা করেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পরদিন সকালে পুলিশ তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত করা হয়। এতে শরীরে ফাঁসির দাগ ছাড়া কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, মারা যাওয়া ওই যুবক কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের আগেই চাঁদাবাজি, দস্যুতাসহ ৬টি মামলা রয়েছে। তবে যোগাযোগ মাধ্যমে দলীয় পরিচয় দিয়ে খবর ছড়ানোর বিষয়টি সত্য নয়। একই নামের হওয়ায় এমন বিভ্রান্তি বলে দাবি এই কর্মকর্তার।
পুলিশের ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত হতাশা থেকেই আত্মহত্যা করেছেন ওই যুবক।
ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পরে সন্ধ্যায় নগরীর পশ্চিম ফিরোজ শাহ এলাকায় তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার সকাল ওই এলাকায় ওই যুবকের বাসায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, গতকালই তাঁর মা ও দুই ভাই রাউজানের উড়িকচর গ্রামের বাড়িতে চলে যান।



