চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এজিএমসহ অন্তত ১৫ জন বিদ্যুৎ কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ অফিস। ঘটনার জেরে ডিজিএমকে অফিসে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
রোববার দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের উত্তর ধানুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে গত ২৩ জুন চির্কা সাবস্টেশন এলাকা থেকে দুই বিদ্যুৎ কর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার রেশ ধরেই উত্তেজনা চলছিল।
ওই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার সকালে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. সাইফুল আলম কোনো পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়াই অভিযুক্ত দুই গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ দেন। এরপর এজিএম নাজির উল্লাহর নেতৃত্বে ২০-২৫ সদস্যের একটি দল উত্তর ধানুয়া গ্রামে অভিযানে গেলে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, সংঘর্ষে এজিএম নাজির উল্লাহসহ অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন।
ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতা ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. সাইফুল আলমকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন ২০-৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ সময় ‘এক দফা, এক দাবি– ডিজিএমের অপসারণ চাই’ স্লোগান দেন তারা।
আন্দোলনরতদের অভিযোগ, এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ জানার পরও পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়া তাদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। এটি তাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ।
অন্যদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ, গত দুই মাস তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ বিলের কাগজ সরবরাহ করা হয়নি। পরে তিন মাসের বিল একসঙ্গে দিয়ে আগের দুই মাসের বিলের ওপর বিলম্ব ফি আরোপ করা হয়েছে। পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আসায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়।
একাধিক গ্রাহক দাবি করেন, সংযোগ বিচ্ছিন্নের কারণ জানতে চাইলে বিদ্যুৎ কর্মীরা এক নারী গ্রাহকের সঙ্গে অসদাচরণ ও মারধর করেন। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং এলাকাবাসী পাল্টা হামলা চালায়। পরে স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে বিচ্ছিন্ন সংযোগ পুনঃস্থাপন করে কর্মীরা এলাকা ত্যাগ করেন।
গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, ‘আমি নিজেও এই অব্যবস্থাপনার ভুক্তভোগী। সাধারণ মানুষকে এভাবে হয়রানি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
অবরুদ্ধ ডিজিএম মো. সাইফুল আলম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘জিএম আসছেন, তিনিই সব বলবেন।’
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. এরশাদ উল্লাহ জানান, ধানুয়া গ্রামে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবর পেয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।



