পরিবেশ সম্মত ও নিরাপদ জাহাজ কাটার পরিবেশের ভিত্তিতে ‘গ্রিন ইয়ার্ড’ স্বীকৃতির পরও চট্টগ্রামে জাহাজ ভাঙা শিল্পে দুর্ঘটনা ঠেকানো যাচ্ছে না। গ্রিন ইয়ার্ড সনদধারী ফেরদৌস শিপ ইয়ার্ডে সম্প্রতি বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর পর আবারও সামনে এসেছে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, শর্টকাট পথে পুরোনো জাহাজ দ্রুত কেটে বিক্রির প্রবণতা আর নিয়ম মানার অনীহায় বাড়ছে দুর্ঘটনা।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আছে ছোট-বড় ১৬৫টি নিবন্ধিত শিপ ইয়ার্ড। এর মধ্যে ৩১টি হংকং কনভেনশনের আওতায় ‘গ্রিন ইয়ার্ড’ সনদপ্রাপ্ত। বিশ্বব্যাপী ৩২১টি পরিত্যক্ত জাহাজের মধ্যে এসব ইয়ার্ডে গেল বছরে ভাঙা হয় ৮৮টি স্ক্র্যাপ জাহাজ।
জাহাজ ভাঙার সময় শুধু লোহা নয়, বেরিয়ে আছে তেলের স্লাজ, অ্যাসবেস্টস, সিসা, পারদ,ক্যাডমিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন বিপজ্জনক পদার্থও, যা আড়াল করতে চলে নানা কৌশল। এ কারণে ‘বাসেল কনভেশন’ মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন বিশ্লেষকেরা।
জাহাজ ভাঙা শিল্প গবেষক মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, ‘সার্টিফিকেট নিয়ে ফেলেছেন কিন্তু যে পলিসিগুলো আছে সেগুলো মানাছেন না, তাহলে কনভেনশনের কী দোষ? সেগুলো তো মানতে হবে। তার মানে সার্টিফিকেট আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।’
জাহাজে বিষাক্ত বর্জ্যের ঝুঁকি এড়াতে সরকারি সংস্থাগুলোর আরও তদারকি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব ইয়ার্ড মালিকদের।
বিএসবিআরএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর আছে, অন্যান্য বিভাগ আছে, ওরা ইনফেকশন করে। তাদের স্বচ্ছতা, দায়িত্ববোধটাও দেখতে হবে।’
এদিকে স্ক্র্যাপ জাহাজ কেনা ও পরে ভাঙার ক্ষেত্রে শ্রমিক সুরক্ষা, পরিবেশ ও বর্জ্যের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নজরদারির বাড়ানোর কথা বলছে মন্ত্রণালয়।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, ‘যা যা অবস্ট্যাকলগুলো আছে সবগুলো দূর করে কীভাবে আমরা গ্রিন ইয়ার্ড তৈরি করতে পারি, আমাদের এই সেক্টরটাকে আমরা কীভাবে আরও লাভজনক করতে পারি, আরও কীভাবে কর্মসংস্থান তৈরি হয়- সেজন্য যা করা দরকার সবকিছুই সরকার করবে। যা যা অবস্ট্যাকল আছে সেগুলো দূর করা হবে।’



