মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর, হরিরামপুর ও সদরের একাংশ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মমতাজ বেগম বলেছেন, ভোটারদের প্রভাবিত করতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেওয়ান জাহিদ আহম্মেদ ‘কালো টাকা’ ছড়াচ্ছেন। এর যথেষ্ট প্রমাণও তাঁর কাছে রয়েছে। এ ছাড়া জাহিদ আহম্মেদের কর্মীরা সাবান দিয়েও ভোটারদের প্রভাবিত করছেন, যা আচরণবিধি লঙ্ঘন।’
বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী মমতাজ বেগম ও দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জাহিদ আহম্মেদ টুলু সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন। এ সময় মমতাজ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় জাহিদ আহম্মেদ নির্বাচনী অনুসন্ধানী কমিটির কাছে দুবার মুচলেকা দিয়ে এসেছেন। এর পরও আচরণবিধি লঙ্ঘন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁর কর্মীরা সরে আসেননি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিঙ্গাইর উপজেলার পূর্ব ভাকুম গ্রামে নিজ বাসভবনে মমতাজ বেগম এবং বিকেলে উপজেলার বাইমাইল এলাকায় ব্যক্তিগত কার্যালয়ে দেওয়ান জাহিদ আহম্মেদ সংবাদ সম্মেলন করেন।
এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও সিঙ্গাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ বেগম দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। আর জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ দেওয়ান জাহিদ আহম্মেদ দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
একের পর এক আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল দাবি করে মমতাজ বেগম বলেন, আগে জাহিদ আহম্মেদ ও তাঁর কর্মীরা টাকা-পয়সা এবং এখন মালামাল দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে লিখিত আবেদন করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ বেগম বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহীউদ্দীনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কতিপয় জ্যেষ্ঠ নেতা দলীয় প্রার্থীর প্রচারে অংশ না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। এটা মোটেও সমীচীন নয়। তিনি (গোলাম মহীউদ্দীন) এই ধরনের নির্দেশনা দিতে পারেন না। যদি দেন তাহলে সেটা কতটুকু যুক্তিসংগত তা মিডিয়ার মাধ্যমে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ হাইকমান্ডকে জানাতে চাই।’
এ সময় সিঙ্গাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুর রহমান, হরিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলজার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আবিদ হাসান, সিঙ্গাইর পৌর মেয়র আবু নঈম মো. বাশার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ দিকে সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জাহিদ আহম্মেদও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছেন নৌকার প্রার্থী মমতাজ বেগম ও তাঁর কর্মীরা। সাধারণ ভোটারদের হুমকি দিয়ে ভীতি সঞ্চার করা হচ্ছে। অথচ এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন। জনগণ যাঁকে ভোট দেবে তিনিই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। হুমকি-ধমকি কোনো কাজে আসবে না। তবে নৌকার প্রার্থী ও তাঁর কর্মীরা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছেন।’
দেওয়ান জাহিদ বলেন, ‘আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে আমাকে দুবার যেতে হলেও মমতাজ বেগমকে একবার যেতে হয়েছে। উনিও মুচলেকা দিয়ে চলে এসেছেন। মমতাজ বেগম আমার প্রার্থিতা বাতিল চাইতে পারে। আমিও তো তার প্রার্থিতা বাতিল চাইতে পারি। কোনটা বাতিল হবে না হবে, এটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। তবে কোনো পক্ষের আচরনবিধি ভঙ্গ করা উচিৎ নয়। নৌকার প্রার্থী ভোটারের কাছে না গিয়ে শুধু অভিযোগ করছেন। এবার নির্বাচনে দলের যে কেউই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই তা বলেছেন। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তাঁর কর্মীদের ওপর হামলা ও ভোটারদের কেন্দ্রে না যেতে হুমকি দিচ্ছেন নৌকার কর্মীরা।’
দেওয়ান জাহিদ আহম্মেদ টুলু বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় অধিকাংশ দলীয় নেতা-কর্মী নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে নেই। ভোটারদের কাছ থেকে তিনি (স্বতন্ত্র প্রার্থী) ভালোবাসা পাচ্ছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তিনি জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী।
সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদ আহম্মেদের সঙ্গে সিঙ্গাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সায়েদুল ইসলাম, স্থানীয় বায়রা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দেওয়ান মো. জিন্নাহ ও তাঁর (জাহিদ) মেয়ে দেওয়ান ইলমা প্রমুখ আহম্মেদ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ-২ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নৌকার প্রার্থী ছাড়াও এই আসনে দলের চার স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন, দেওয়ান জাহিদ আহম্মেদ (ট্রাক), দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল (মোড়া), মুশফিকুর রহমান খান (কেতলি) ও সাহাবুদ্দিন আহমেদ (ঈগল)। এ ছাড়া এই আসনে অন্যান্য দলের আরও পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন।



