নাব্য সংকটে পল্টুন দূরে সরে যাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের গোপালপুর ঘাটে। মালামাল নিয়ে পাড়ি দিতে হচ্ছে প্রায় এক কিলোমিটার চর। প্রশাসন ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করলেও তা কাজে আসছে না বলে অভিযোগ আছে।
শুকনা মৌসুমে এভাবে প্রায় এক কিলোমিটার চর পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে হয় চরভদ্রাসনের গোপালপুর ঘাটে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদেরও পোহাতে হয় ভোগান্তি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘বালুর মধ্যে হাটে যাইতে পা গেড়ে যায়, ব্যাগ নিয়ে যেতে পারি না। ঘাট ঠিক করে দিলে ঘাটে গিয়ে নামা গেলে সুবিধা হয়।’
লঞ্চ ও স্পিড বোটে সহজে ঢাকা পৌঁছানো যায় বলে ৪০ বছর ধরে গোপালপুর ঘাট থেকে মইনুল ঘাট দিয়ে পদ্মা পারাপার ফরিদপুর অঞ্চলের মানুষের প্রিয় নৌপথ। স্পিড বোটে মাত্র ১৫-২০ মিনিটে নদী পাড়ি দেওয়া যায়, রাজধানীতে পৌঁছানো যায় দুই ঘণ্টায়।
যাত্রীরা বলছেন, এই পথে ঢাকা যাতায়াতে খুব সুবিধা। সকালে ঢাকা গিয়ে বিকেলে ফেরা যায়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লউটিএ) ড্রেজার কয়েক মাস ধরে ঘাট এলাকায় কাজ করলেও আশানুরুপ ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। মালামাল নিয়ে যাত্রীদের কষ্ট করে ঘাটে পৌঁছাতে হচ্ছে।
ফরিদপুর চরভদ্রাসন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কাউছার বলেন, ‘অপরিকল্পিত ড্রেজিং নাব্যতা সংকটের মূল কারণ। এত দিন ধরে ড্রেজিং হলেও আমরা এর সুফল পাচ্ছি না।’
গোপালপুর থেকে মইনুল ঘাটের নাব্য সংকট দূর করতে ঊর্ধ্বতন মহলে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার। তিনি বলেন, বিষয়টির ওপর জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আলোকপাত করা হয়েছে। সচিব বিষয়টি শুনে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
নৌপথ ও যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও তদারকি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।



