মানিকগঞ্জের সিংগাইরে র্যাব পরিচয়ে স্বর্ণ ব্যবাসয়ীকে অপহরণ করে স্বর্ণ লুটের ঘটনায় ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে সিংগাইর উপজেলার জামশা বাজারে একটি মাইক্রোবাস থামিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এর আগে সকাল ৭টার দিকে দোহার-জামশা সড়কের সিংগাইর উপজেলার জামশা ইউনিয়নের আমতলা এলাকায় অপহরণের ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলো– ফরিদপুর সদরের রাধানগর এলাকার সিকান্দার মিয়ার ছেলে শামিম হোসেন, একই এলাকার আব্দুল মালেক শেখের ছেলে মিরাজুল শেখ (২৮), মেঘমাচি এলাকার সোলেমান মৃধার ছেলে সম্রাট হোসেন (২৮),পাবনার আটঘড়িয়া থানার পাটেশ্বর এলাকার মৃত ফরমান প্রামানিকের ছেলে আমিজ উদ্দিন (৫০) ও সাভারের আশুলিয়ার খেজুরটেক এলাকার মৃত আব্দুর রহিম বক্সের ছেলে জানিব বক্স (৬২)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ঢাকার পাশ্ববর্তী জেলার দোহার উপজেলার জয়পাড়া থেকে প্রায় একশো ভরি স্বর্ণ নিয়ে সিএনজির মাধ্যমে সিংগাইরের চারিগ্রামের ব্যবসায়ী পার্টনার আবুল হোসেনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন সুমন হালদারসহ ৩ ব্যক্তি। কিন্তু দোহার-জামশা সড়কের জামশার আমতলা এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী সিএনজির গতিরোধ করে ডাকাত সদস্যরা। এরপর র্যাব সদস্য পরিচয়ে সুমন হালদারসহ তিনজনের চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পথে জামশা বাজারের ব্যবসায়ীরা মাইক্রোবাসটি থামায় এবং মুখের কাপড় খুলে ফেললে তাঁরা সুমন হালদারসহ অন্যদের চিনতে পারে। এরপর মাইক্রোবাস চালকসহ র্যাব পরিচয়দানকারী ডাকাতদের আটক করে এবং গণধোলাই দিয়ে পুলিশকে খবর দেয় জামশা বাজারের ব্যবসায়ীরা। খবর পেয়ে পুলিশ আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এর আগে মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে সুমনদের কাছ থেকে প্রায় একশো ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা আরেক ডাকাত সদস্য সিদ্দিকুর রহমানের কাছে পাঠিয়ে দেয় র্যাব পরিচয়দানকারীরা।
ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবাসয়ী সুমন হালদার বলেন, ‘চার ব্যক্তি হঠাৎ সিএনজি অটোরিকশার গতিরোধ করে এবং র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে মারধর করে চোঁখ মুখ বেঁধে জোর করে আমাদের তাদের গাড়িতে উঠিয়ে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর মাঝ রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে আমাদের কাছে থাকা স্বর্ণ নিয়ে একজন মোটরসাইকলে চালকের কাছে স্বর্ণ পাঠিয়ে দেয় র্যাব সদস্যরা। এর প্রায় ১ ঘণ্টা পর জামশা বাজারের ব্যবসায়ীরা গাড়িটি থামায় এবং চোখ–মুখের কাপড় সরাতেই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আমাদের চিনতে পারে। পরে বুঝতে পারলাম ভুয়া র্যাব পরিচয় দিয়ে আমাদের স্বর্ণ ডাকাতি করতে এসেছে ডাকাতরা।’
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আহত অবস্থায় ৫ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সিদ্দিককে আটকের চেষ্টা চলছে।’
তবে লুন্ঠিত স্বর্ণের পরিমাণ ও র্যাব সদস্য পরিচয়ের বিষয়ে ওসি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।



