গাজীপুরের কাপাসিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সামনে এক স্কুলশিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত শিক্ষক হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর গতকাল শনিবার রাতে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেনের (৪২) বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মারধরে আহত শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (৪৪)। তিনি উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের কপালেশ্বর গ্রামের ফাইজ উদ্দিনের ছেলে এবং কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক। এ ছাড়া স্কুলটির শিক্ষক প্রতিনিধিও তিনি।
লিখিত অভিযোগ তিনি উল্লেখ করেন, গত শনিবার দুপুরে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই দিন স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউএনও একেএম লুৎফর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন স্কুলটির অভিভাবক সদস্য। তিনি সিংহশ্রী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। শনিবার বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে মিটিং বসে। সেখানে ইউএনওকে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান বিল্লাল হোসেন।
একপর্যায়ে বিল্লাল হোসেন ওই প্রধান শিক্ষকের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় অপর শিক্ষক মোজাম্মেল হক বিল্লাল হোসেনকে থামতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হন বিল্লাল। তিনি উত্তেজিত হয়ে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোজাম্মেল হককে মারধর করেন। এতে আহত হলে তাঁকে উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে উপস্থিত ইউএনও থানায় খবর পাঠান। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
অভিযোগে বিল্লাল হোসেন ছাড়াও মো. সাইফুল ইসলাম (৪৫), সোহেল রানা সাহেল (৪২), মো. হাবিবুর রহমান (৪৪) ও নাসির উদ্দিন (৪১) নামে আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন ওই শিক্ষক। অভিযুক্তরা সবাই ওই দিন সভায় উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মিটিংয়ে ইউএনওকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে বলেছিলেন অভিভাবক সদস্য বিল্লাল হোসেন। কিন্তু তাৎক্ষণিক সেখানে ফুলের ব্যবস্থা করা যায়নি। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান বিল্লাল হোসেন। একপর্যায়ে বিল্লাল হোসেন ওই প্রধান শিক্ষকের প্রতি প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় আমি বিল্লাল হোসেনকে থামতে বলি। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উত্তেজিত হয়ে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আমাকে মারধর করেন।’
এদিকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি মারধর করিনি। আমি প্রতিবাদ করায় শিক্ষক মোজাম্মেল হক আমাকে মা-বাবা তুলে গালিগালাজ শুরু করেন। এতে আমি তাঁর হাতে শুধু ধাক্কা দিয়েছি। মারধরের বিষয়টি অতিরঞ্জিত।’
কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আফজাল হোসাইন বলেন, ‘বিল্লাল হোসেন আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এতে বাধা দেওয়ায় বিল্লাল হোসেন তার লোকজন নিয়ে সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে মারধর করেছেন।’
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম লুৎফর রহমান বলেন, ‘তাদের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে তারা তর্কে জড়ায়। একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধর করা হয়। আমি পুলিশ ডেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছেন মারধরের শিকার শিক্ষক। এখন আইনগতভাবে যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তারা নেবে।’
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর মিয়া বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মারামারির ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।’



