নরসিংদীর বেলাব সরকারি হোসেন আলী কলেজের অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তীর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এ ছাড়া পলাতক, ফ্যাসিস্ট, দুর্নীতিবাজ, অর্থ আত্মসাৎকারী, রাতের আঁধারে পকেট কমিটি গঠন, স্বেচ্ছাচারীসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে আজ সোমবার দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণে এই বিক্ষোভ হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর ২০১৩ সালে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন বীরেশ্বর চক্রবর্তী। যোগদানের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎসহ কলেজে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে চারবার তদন্ত হয় এবং তদন্তে চারবারই অভিযুক্ত হন বীরেশ্বর চক্রবর্তী। ২০১৮ সালে অডিট কমিটির অডিটে অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে কলেজের প্রায় ১১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৭৯ টাকা আত্মসাৎ প্রমাণিত হয়। আত্মসাৎকৃত অর্থের মধ্যে তৎকালীন সময়ে ৩ লাখ টাকা ফেরত দেন তিনি। উল্লিখিত আর্থিক অনিয়মসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এদিকে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হঠাৎ করেই উধাও হন অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তী। কোনোরকম ছুটি ছাড়াই প্রায় ৪ মাস যাবৎ তিনি কলেজে অনুপস্থিত। কলেজের অন্যান্য শিক্ষক কর্মচারীরা বারবার ফোন দিয়েও তাঁকে পাননি। ফলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না কেউই।
কলেজের শিক্ষকেরা অভিযোগ করেন, ডিডিও সিট ও লেনদেনের পাসওয়ার্ড তাঁর কাছে থাকায় বন্ধ রয়েছে কলেজটির যাবতীয় লেনদেন। তাছাড়া ছুটি ছাড়া দীর্ঘ ৪ মাস ধরে অনুপস্থিত থাকার কারণে কলেজটির অফিসিয়াল কাজকর্মের পাশাপাশি পাঠদানেও বিঘ্ন ঘটছে। ফলে কলেজ কর্তৃপক্ষ অধ্যক্ষ চলতি দায়িত্ব দিয়েছেন জিয়ারউর রহমান নামের একজন শিক্ষককে।
সরেজমিনে বেলাব হোসেন আলী কলেজে গিয়ে দেখা যায়, কলেজটির দোতলা ভবনের একটি কক্ষে অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে চলছে তদন্ত। তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নরসিংদী সরকারী কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. সিরাজ উদ্দীন ভূঁইয়াভ। নিচে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলাকাবাসীর।
কলেজের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী কুলসুমসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানান, অধ্যক্ষ বীরেশ্বর তাঁদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও কলেজে তাঁর একক আধিপত্য ছিল। গত ৪ মাস ধরে কলেজে আসছেন না তিনি। অর্থ আত্মাসৎ ও নানা অনিয়মের কারণে অধ্যক্ষ তাঁর পদত্যাগ চান শিক্ষার্থীরা।
বেলাব সরকারি হোসেন আলী সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করে বলেন, ‘অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তী সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর তিনি বিভিন্ন সময়ে কলেজের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। বর্তমানে তিনি ৪ মাস ধরে অনুপস্থিত। উনি কোথায় আছেন, আমরা কিছুই জানি না। আমরা চাই উনাকে যেন অপসারণ করা হয়।’
কলেজটির চলতি অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা জিয়ারউর রহমান বলেন, ‘সরকার পতনের পর থেকেই কোনোরকম ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত রয়েছেন অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তী। উনার কাছে ডিডিও সিট ও কলেজের লেনদেনের পাসওয়ার্ড থাকায় আমরা কলেজের কোনোরকম লেনদেন করতে পারছি না।’
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেলাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তী অনুপস্থিত থাকায় পাঠদান ও কলেজের অন্যান্য কাজে গতি ফিরিয়ে আনার জন্য নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’



