গাজীপুরে বনের জমি দখল করে গড়ে তোলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহ মোহাম্মদ ওমর ফারুকের অবৈধ কলোনিসহ অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছে যৌথবাহিনী। আজ সোমবার সকালে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুনুর রশীদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শারমীন আক্তার।
অভিযানে বনে নির্মিত অর্ধশতাধিক ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে যৌথবাহিনীর সদস্যরাসহ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে গাজীপুর সদর উপজেলার গুচ্ছগ্রামে ৩ একর গেজেটভুক্ত বনভূমি উদ্ধার করা হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শারমীন আক্তার বলেন, ‘অবৈধ দখল মুক্ত করতে এলাকায় বার বার মাইকিং করা হয়। আমাদের টার্গেট এই এলাকার ৯ একর বনভূমি উদ্ধার। এ লক্ষ্যে আমাদের অভিযান চলছে। দ্রুততম সময়ে এসব ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করে বনভূমি সংরক্ষণ করা হবে।’
জানা গেছে, গাজীপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহ মোহাম্মদ ওমর ফারুকের নেতৃত্বে গাজীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিগত হাসিনা সরকারের আমলে বন দখলে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন। তাঁর উসকানিতে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ওপর বেশ কয়েকবার হামলা চালায় বন খেকোরা। বিগত ৫ আগস্টের পর গাজীপুর সদর উপজেলার গুচ্ছগ্রামে ওমর ফারুকের দখলে থাকা এক একর ২০ ধারায় গেজেভুক্ত বনে বেশ কয়েকটি বাড়ি নির্মিত হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওমর ফারুক তাঁর দখলে থাকা বনভূমি ছোট ছোট প্লট আকারে বেশ কয়েকজনের কাছে বিক্রি করেন। পরে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশের সুযোগ নিয়ে বিক্রি হওয়া বনে অবাধে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নির্মিত হয়। এসময় বন দখলে বাধা দিতে গিয়ে দফায় দফায় হামলার শিকার হন স্থানীয় বনকর্মীরা। পরে বনকর্মীদের অনুপস্থিতির সুযোগ বুঝে ওমর ফারুকের ক্যাশিয়ার খ্যাত বাতেন ও সাত্তার মোল্লা লাখ লাখ নগদ টাকার বিনিময়ে বনে চুক্তি করে বাড়িঘরসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করে দেন।
এ বিষয়ে শাহ মোহাম্মদ ওমর ফারুকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান।



