ফরিদপুরে তৃতীয় স্ত্রীকে সিগারেটের ছ্যাঁকা ও বেধড়ক পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী আসাদুজ্জামান বাচ্চুকে (৪২) ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় দেন।
রায়ের সময় আসামি বাচ্চু আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেল হাজাতে পাঠানো হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বাচ্চুর বিরুদ্ধে এর আগে প্রথম স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে রাজবাড়ী জেলায় মামলা চলছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে জেলার মধুখালী উপজেলায় পৌর এলাকার রুমির মুরগির ফার্মে কাজ করার সুবাদে ওই এলাকার ভাটিকান্দি মথুরাপুর গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের মেয়ে শান্তার সাথে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ থানা এলাকার কানাইমাতবার গ্রামের ছাত্তার শেখের ছেলে বাচ্চুর বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর থেকে স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু করেন বাচ্চু। পরে একাধিকবার থানায় ও স্থানীয়ভাবে মিংমাশা হওয়ার পর শান্তাকে নিয়ে সংসার করতে রাজি হন তিনি। ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর জেলার সদর উপজেলার দিরাজতুল্লাহ মাতুব্বর ডাঙ্গী এলাকায় এমবিআই অ্যাগ্রো ফার্মে চাকরি করা অবস্থায় বাচ্চু তার স্ত্রী শান্তাকে বেধরক মারধর ও সিগারেট দিয়ে মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ তালা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় নিহতের মা জরিনা বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় আসামির নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় দিলেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী মিয়া রতন রায়ের বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আসাদুজ্জামান বাচ্চু এর আগে দুটি বিয়ে করেন। যার মধ্যে প্রথম স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে পার্শ্ববর্তী জেলা রাজবাড়ী আদালতে মামলা রয়েছে। আসামি বাচ্চুর বিরুদ্ধে তৃতীয় স্ত্রী শান্তাকে হত্যার অভিযোগে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় আদালত আজ এই রায় দেন। এই রায়ে রাষ্ট্র পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করছে।’



