মানিকগঞ্জে টনসিলের অপারেশন করতে এসে চিকিৎসকের অবহেলায় জেসমিন আক্তার (৩৭) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া উঠেছে। মানিকগঞ্জের বেসরকারি ইউনাইটেড জেনারেল হাসপাতালের দুইজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।
জেসমিন আক্তার জেলার দৌলতপুর উপজেলার উলাইল এলাকার মো. রেজাউল করিমের স্ত্রী। তাঁর ৭ মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান ও ১০ বছর বয়সী পুত্র সন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টায় মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় ইউনাইটেড জেনারেল হাসপাতালে টনসিল অপারেশনের জন্য জেসমিন আক্তারকে নেওয়া হয়। এরপর বিকেলে অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক জিয়াউল হক এবং অপারেশনের জন্য ডা. এনামুল হকের তত্ত্বাবধায়নে অপারেশন রুমে নেওয়া হয়। এরপর টনসিল অপারেশনের জন্য অ্যানেসথেসিয়া দেওবার পর রোগীর অবস্থা অবনতির দিকে যেতে থাকে। একপর্যায়ে রোগীকে আইসিইউ সেবা দেওয়ার জন্য রোগীর স্বজনদের ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
পরে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জেসমিন আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সেখান থেকে পুনরায় মরদেহ নিয়ে ইউনাইটেড জেনারেল হাসপাতালে নেয় ভুক্তভোগী পরিবার। সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের ঘণ্টাব্যাপী বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তারের বড় ভাই আতাউর রহমান বলেন, ‘অপারেশন রুমে আমার বোনের জ্ঞান ফিরছে না, এই খবর কর্তৃপক্ষের কাছে পাওয়ার পর আমরা তাদের পরামর্শে বোনকে অচেতন অবস্থায় ঢাকায় নিয়ে যাই। সেখানকার ডাক্তার আমার বোনকে মৃত ঘোষণা করেন। অ্যানেস্তেশিয়া ডাক্তারের অবহেলায় আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের ম্যানেজার আবু রায়হান আল বেরুনী ওরফে রাজা বলেন, ‘যে কোনো রোগীর টনসিল অপারেশন করতে গেলে তাকে পুরোপুরি অজ্ঞান করে নিতে হয়। অপারেশন করার আগে রোগীর যেসব পরীক্ষানিরীক্ষা করা দরকার সবগুলো করা হয়েছে এবং সেগুলোর রিপোর্ট ভালো ছিল। তবে জেসমিন আক্তারের ক্ষেত্রে হিডেন কোনো সমস্যা থাকতে পারে। এছাড়া যে অ্যানেস্তেশিয়া এবং অপারেশন করেছেন তারা খুবই অভিজ্ঞ চিকিৎসক। ওনাদের দিক থেকে কোনো অবহেলা নাই। রোগীকে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু জ্ঞান না ফেরার কারণে রোগীকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানোর কথা বলা হয়। কিন্তু ওনারা ঢাকা মেডিকেলে না গিয়ে এনামে গেছে। পরে শুনেছি রোগী এনামে মারা গেছে। এখানে আমাদের হাসপাতালের দায়িত্বরত কোনো চিকিৎসকের অবহেলা নেই।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সদর হাসপাতালের অ্যানেস্তেশিয়া কনসালটেন্ট ডা. জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি।
আরেক চিকিৎসক ডা. এনামুল হক বলেন, ‘আমার অপারেশনের ক্ষেত্রে কোনো ভুল বা অবহেলা নেই। অপারেশনের পর কেন রোগীর জ্ঞান ফিরলো না, সে বিষয়ে যিনি অ্যানেস্তেশিয়া করেছেন তিনি ভালো বলতে পারবেন।’ এ বিষয়ে মৃতের স্বজনদের সঙ্গে পুলিশের উপস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমাধান হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



