ফরিদপুরে নিজের বিউটি পার্লার থেকে নারী উদ্যোক্তা শান্তা ইসলামের (৩৩) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা শহরের অনাথের মোড় সংলগ্ন সাঁঝের মায়া ভবনে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ভেতরের একটি কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শান্তা ইসলাম জেলা সদরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের কাইয়ুম উদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের মৃত কানু মোল্লার মেয়ে। শহরের অনাথের মোড় এলাকায় সাজের মায়া ভবনের নিচতলায় ‘ইয়াং লাইফ বিউটি পার্লার অ্যান্ড লেজার সেন্টার’ নামে তার একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে ২০ জনের অধিক কর্মচারী কাজ করে।
শান্তার ভাই রাজিব মোল্লা জানান, শহরের টেপাখোলা এলাকার আকিদুল ইসলাম ওরফে রুমন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে শান্তার বিয়ে হলেও ২০২০ সালে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। তাদের সারা ইসলাম নামে ১৩ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
রাজিব মোল্লা বলেন, ‘আজ ভোরে আমার ভাগ্নি ফোন করে জানায়, তার মা আর নেই। পরে এসে দেখি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে আমার বোনের দেহ। আমার বোনের আর্থিক কোনো সমস্যা ছিল না। গতকাল রাতেও আমরা হাসপাতালে মাকে দেখতে গিয়েছিলাম। রাত ১১টা পর্যন্ত আমরা তিন ভাই ও বোন শান্তা সেখানে ছিলাম।’
পার্লারের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই দিন আগে প্রতিষ্ঠানে এসে শয়নকক্ষে রাত যাপন করেন শান্তা। ঘটনার দিন রাতে তার পাশের একটি কক্ষে ছিলেন লাভলী আক্তার (১৮) নামে এক নারী কর্মচারী।
লাভলী আক্তার বলেন, ‘রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত প্রাক্তন স্বামী আকিদুল ইসলামের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন ম্যাম। একপর্যায়ে চিৎকার করে কথা বলতে থাকেন তিনি। আমি দৌড়ে গেলে আমাকে বের করে দিয়ে ভেতর থেকে রুম আটকে দেন।’
এ ব্যাপারে ফরিদপুরের কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, ‘শান্তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



