রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩টি ফুটওভারব্রিজের চলন্ত সিঁড়ি। গচ্চা যাচ্ছে জনগণের করের কোটি কোটি টাকা। সুবিধার বদলে এসব ফুটওভার ব্রিজ হয়ে উঠেছে নগরবাসীর ভোগান্তির কারণ। কর্তৃপক্ষ বলছে, যন্ত্রাংশ চুরি হওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে চলন্ত সিঁড়ি। শিগগিরই মেরামত করে আবারও চালুর চেষ্টা চলছে।
রাজধানীর বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ডে চলন্ত সিঁড়িযুক্ত ফুটওভার ব্রিজটি ২০১৬ সালের আগস্টে উদ্বোধন করা হয়। এটি নির্মাণে ঢাকা উত্তর সিটির খরচ হয় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। কিন্তু চালুর অল্প কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্ন সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকে চলন্ত সিঁড়িগুলো।
২০১৪ সালে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বনানী ফুটওভার ব্রিজের চলন্ত সিঁড়িরও বেহাল দশা। অচল হয়ে আছে ইসিবি চত্বরে ফুটওভারব্রিজের চলন্ত সিঁড়িও।
পথচারীদের সুবিধার জন্য এসব এস্কেলেটর বা চলন্ত সিঁড়িযুক্ত ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বিকল হওয়ায় সুবিধার বদলে সেগুলো নগরবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পথচারীদের একজন বলেন, চলন্ত সিঁড়ি ছাড়া যেভাবে সিঁড়িতে চলাফেরা করি সেভাবেই চলতে হয়। কিন্তু আরও ডিস্টার্ব হয় এই সিঁড়িটার জন্য। কেননা এটা সাইজে অনেক ছোট, ফলে একেঅন্যকে ক্রস করার সময় ধাক্কা লাগে।
আরেক পথচারী জানান, এখনতো কোনো উপকার দেখতেছি না, খুবই খারাপ অবস্থা। মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে।
বিকল হয়ে পড়া চলন্তসিঁড়ি প্রসঙ্গে আরেকজন বলেন, বিকল হওয়া চলন্তসিঁড়ি ক্ষতিই করেছে। কারণ আমরা বয়স্ক মানুষ, উঠতে-নামতে সমস্যা হয়। আর লোকজনের বেশি আসা-যাওয়া, অতএব এটা চালু থাকলে তো এত সমস্যা হত না।
ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী বলছেন, চলন্ত সিঁড়ি সচল রাখতে মূল সমস্যা নগরবাসীর সচেতনতার অভাব, আর যন্ত্রাংশ চুরি। শিগগিরই মেরামত শেষে সচল হবে চলন্ত সিঁড়ি।
ডিএনসিসি'র প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন বলেন, 'দুষ্কৃতিকারী আগে যেরকম রাস্তার ম্যানহোলগুলো চুরি করত, খুব রিসেন্টলি দেখা যায় তারা এসকেলেটরের প্লেটগুলোকে খুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে, মটরগুলোকে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। তো সেইম ঘটনা ঘটেছে এই দুটো এসকেলেটরে। এগুলো একটু পুরোনো, কিন্তু তারপরও এগুলোর প্লেটগুলো তারা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, মটরগুলো চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। কালশী রোডের নতুন যে ফুটওভারব্রীজটা, যেটা সেনাবাহিনী তৈরি করেছে, ওটারও মটরটা খুব রিসেন্টলি চুরি করে নিয়ে গেছে। তো এই মেকানিক্যাল আইটেম যেগুলো ইমপোর্ট করতে হয় এগুলো একটু সময়সাপেক্ষ, এগুলো রিপেয়ারের কাজ আমরা হাতে নিয়েছি।
কোটি কোটি টাকা গচ্ছা যাওয়ার পরও ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আবারও ফুটওভারব্রিজ নির্মাণে ঢাকা উত্তর সিটি বরাদ্দ রেখেছে ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।



