ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে শুরু করেন তিনি। ২০১৮ সালে আবার আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করেন।
আওয়ামী লীগের নেতাদের ম্যানেজ করে কোতয়ালী আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হন ডাবলু। গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে গেলেও বিএনপি ক্ষমতায় না আসায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হাতে ফুলে দিয়ে দলটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তারপর থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন ডাবলু।
বর্তমানে ওমর ফারুক ডাবলু ফরিদপুর সদর উপজেলার আলীয়বাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। ওই এলাকার বাসিন্দা মোকসেদ মাতুব্বরের ছেলে। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ নেতাদের সহায়তায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তারপর তিনি এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবরের লোক হিসেবে পরিচিতি পান। পরপর তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি বর্তমানেও চেয়ারম্যানের দায়িত্বে পালন করেন।
৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তন হলে আত্মগোপনে চলে যান ওমর ফারুক ডাবলু। কিছুদিন চুপচাপ থেকে পুরোনো দলের নেতাদের ম্যানেজ করে এলাকায় ফিরে আসেন।
গত ২০ জানুয়ারি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নায়াব ইউসুফ। এছাড়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজীর আহম্মেদ তাবরীজসহ বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে ওমর ফারুক ডাবলু পুনরায় বিএনপিতে ফেরা এবং বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। ৪ দিন আগে বিএনপি নেতাদের সভায় যোগ দিয়ে দলে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পর ডাবলুর গ্রেপ্তারের বিষয়টি শহরে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।
রোববার দুপুরে ফরিদপুর সদরের গজারিয়ার বাজার এলাকা থেকে ওমর ফারুক ডাবলুকে আটক করে নিয়ে আসে ফরিদপুর ডিবি পুলিশ।
ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে কিবরিয়া স্বপন বলেন, ‘ডাবলু আগে বিএনপির নেতা ছিলেন। পরে সে দল বদল করে আওয়ামী লীগে চলে যান। সম্প্রতি তিনি ফরিদপুর-৩ আসনের প্রার্থীর গণসংযোগে অংশ নেন। তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় গ্রেপ্তার হয়েছে শুনেছি।’
ফরিদপুর ডিবি পুলিশের (ওসি) পি এম মামুনুর রশিদ বলেন, ‘কোতয়ালী থানার ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের ১৮ নম্বর মামলার সূত্রে ডাবলু চেয়ারম্যানকে আটক করে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’



