সেতুর কাজ শেষ হয়েছে ২ বছর আগে। কিন্তু দুপাশে তৈরি করা হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে ব্যবহার করা যাচ্ছে না ১০ কোটি টাকায় নির্মিত সেতুটি। এতে দুর্ভোগে নরসিংদী ও গাজীপুরের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি তাদের। তবে সেটি কখন হবে তা বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদের এই অংশের একপাশে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার আসাদনগর ও আরেকপাশে গাজীপুরের কাপাসিয়ার সিঙ্গুয়া বাজার। দুপাশের বাসিন্দাদের যাতায়াত সহজ করতে ২০২২ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকায় সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে এলজিইডি। ২ বছর আগে সেতুটি নির্মিত হলেও, এখনো হয়নি কোনো সংযোগ সড়ক।
সেতু ব্যবহার করতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়েছে আশেপাশের ১০টি গ্রামের লক্ষাধিক বাসিন্দা। অসম্পূর্ণ এই প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের একজন বলেন, 'কোটি কোটি টাকা নষ্ট হয়েছে। এখন কাজের বেলা নাই।'
আরেক জন জানান, 'এই ব্রিজটা অর্ধেক হয়ে পড়ে আছে। আমরা বুড়ো মানুষ হাঁটতে পারি না, কিছু না। এখন না পারতে এর মধ্যে যাওয়া (এভাবে যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছি)।'
নৌকায় করে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন দুই পারের বাসিন্দারা। সেতু থাকলেও তা কোনো কাজে না আসায় জানলেন ক্ষোভের কথা।
এই পথে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'নৌকা ছাড়া কোনো বন্দোবস্ত নাই। এই ব্রিজ আমাদের ইমারজেন্সি দরকার। আমাদের ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে।'
'খুবই কষ্ট আসা-যাওয়া করতে। ঐ পাশে গাড়ি রেখে এই পাশে আসতে হয়। এভাবেই আমরা চলাফেরা করছি,’ জানান আরেক ভুক্তভোগী।
কর্তৃপক্ষ বলছে, সেতুর সংযোগ সড়ক কীভাবে নির্মাণ করা হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। তবে যত দ্রুত সম্ভব বাকি কাজ শেষ করার আশ্বাস তাদের।
নরসিংদী এলজিইডি'র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশা বলেন, 'এটা অ্যাপ্রোচের সড়কটা কীভাবে নির্মাণ করা হবে এটা এখন পর্যন্ত ফাইনাল (ঠিক) হয়নি। ইতোমধ্যেই এটা রিভিশনের জন্য প্রস্তাব গেছে। এই রিভিশনের প্রস্তাবটা যদি পাশ হয়, ইনশাআল্লাহ্ এটা খুব দ্রুত সমাপ্ত করা সম্ভব।
দ্রুত সব কাজ সম্পন্ন করে দুর্ভোগ দূর করার দাবি এলাকাবাসীর।



