আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলে বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছে টাঙ্গাইল-৫ ও টাঙ্গাইল-৩ আসন। এছাড়া দুটি আসনে বিএনপি-জামায়াত-স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। বাকি আসনগুলোতে জামায়াতের মুখোমুখি হচ্ছে বিএনপি।
এদিকে ভোটারদের ভাষ্য, রাজধানীর কাছাকাছি অবস্থান হলেও উন্নয়নের দিক থেকে টাঙ্গাইল এখনো পিছিয়ে। তাই তারা বাগাড়ম্বর নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রার্থী বেছে নিতে চান।
টাঙ্গাইলের আটটি সংসদীয় আসনেই নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
তবে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা টাঙ্গাইল-৫ আসন নিয়ে। এখানে বিএনপির প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ ইকবালের লড়াই বেশ দৃশ্যমান। পাশাপাশি জামায়াত প্রার্থী আহছান হাবিব মাসুদেরও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বয়স্কদের সামাজিক সুরক্ষাকে আমি বিশেষ গুরুত্ব দেব।’
একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ ইকবাল বলেন, ‘রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার হাতিয়ার নয়; এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মাধ্যম। নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
অন্যদিকে টাঙ্গাইল-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী এস এম ওবায়দুল হককে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন দুইবারের সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ। এছাড়া সুযোগ কাজে লাগাতে মাঠে সক্রিয় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইফুল্লাহ হায়দার।
টাঙ্গাইল-১, ২, ৬ ও ৭ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তবে টাঙ্গাইল-৪ ও ৮ আসনে জমে উঠছে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ত্রিমুখী লড়াই।
টাঙ্গাইল-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থী আহছান হাবিব মাসুদ বলেন, ‘নির্বাচনী মাঠে আমাদের জনপ্রিয়তা ও সমর্থন দেখে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। তবুও আমরা বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।’
এদিকে টাঙ্গাইল-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী এ কে এম আবদুল হামিদ বলেন, ‘এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
ভোটারদের প্রত্যাশা, প্রতিনিধি নির্বাচনে নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি টাঙ্গাইলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
জেলার আটটি আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা ৪৭ জন। মোট ভোটার ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন।



