ওয়ান ইলেভেনের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা থাকলেও মানব পাচার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে রিমান্ড দিয়েছে আদালত। বিকেলে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এই আদেশ দেন।
গতকাল সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে রাজধানীর বারিধারা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা প্রধান জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। তবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে পল্টন থানার অর্থ ও মানবপাচার মামলায়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, 'ফেনী জেলায় ৩টি মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় উনি পলাতক থাকায় উনার বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে। মোট ৮টি মামলা এখনও তদন্তাধীন। এছাড়াও উনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এবং সিআইডি'তে একাধিক অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।'
পরে অভিযুক্তকে তোলা হয় মহানগর দায়রা জজ আদালতে। পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। তবে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে নিরপরাধ দাবি করে জামিন চান আসামি পক্ষের আইনজীবী।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, 'তার বিরুদ্ধে পাঁচদিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেছিলেন। বিজ্ঞ আদালত এই পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে ন্যস্ত করেন।'
অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন জানান, 'মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর রিমান্ড বাতিলসহ আমরা জামিন চেয়েছি। আমরা বলেছি যে, উনি একজন চৌকস সৈনিক ছিলেন, মেধাবী সৈনিক ছিলেন।'
উল্লেখ্য, মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ৬টি আর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ- ডিএমপিতে রয়েছে ৫টি মামলা। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক)।



