বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) শ্রমিকরা ওভারটাইম বন্ধসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে তারা মহাপরিচালকের দপ্তর ঘেরাও করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
শ্রমিকরা জানান, ব্রি প্রতিষ্ঠার প্রায় ৫৫ বছর ধরে ওভারটাইম প্রদানের একটি নিয়মিত প্রথা চালু ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নতুন মহাপরিচালক ড. মো. খালেকুজ্জামান দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রথা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি বহিরাগত শ্রমিক নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে কাজ করানো হচ্ছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, নিয়মিত শ্রমিকদের কাজে লাগানোর পরিবর্তে মহাপরিচালক খামার বিভাগের সঙ্গে যোগসাজশে অনভিজ্ঞ ও বহিরাগত শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। এতে নিয়মিত শ্রমিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া অতিরিক্ত বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন তারা।
তারা বলেন, তাদের নিয়মিত কর্মঘণ্টা সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা। এরপর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওভারটাইমে কাজ করতেন। দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরির পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪ ঘণ্টার জন্য ৩০০ টাকা পেতেন। ওভারটাইম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
ব্রি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৪১৮ জন শ্রমিক কর্মরত আছেন। এছাড়া বিভিন্ন আঞ্চলিক স্টেশনসহ মোট শ্রমিক সংখ্যা ৮ শতাধিক। অভিযোগ রয়েছে, গবেষণার কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত নিয়মিত শ্রমিক না দিয়ে বহিরাগত শ্রমিক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা গবেষণার মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেন, কম সংখ্যক বহিরাগত শ্রমিক এনে অধিক সংখ্যক শ্রমিকের নামে বিল দেখিয়ে প্রতি মাসে বিপুল অর্থ অপচয় ও আত্মসাত করা হচ্ছে।
এদিকে, সাংবাদিকরা মহাপরিচালক ড. মো. খালেকুজ্জামানের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। খামার বিভাগের প্রধান ড. মো. মামুনুর রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে কথা বলেননি।



