ঢাকার কেরাণীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুনে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দিনগত রাত ১২টার দিকে উদ্ধার করা হয় একজনের মরদেহ। গুরুতর দগ্ধ হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছেন ২ জন।
এ আগেনর ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস। আগুনে প্রাণহানির ঘটনায় শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কদমতলী চৌরাস্তার পাশে সানলাইট গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুন লাগে শনিবার দুপুরে। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে লেলিহান শিখা। আতঙ্ক দেখা দেয় পুরো এলাকায়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘তিন–চারটা বোমার মতো বেরিয়ে আসে। মনে হচ্ছে গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, ‘সাড়ে ১২টার দিকে আমাদের সামনেই ধোয়া উড়তেছিল। বিস্ফোরণ হইতেছিল। এই জায়গা থাইকা আমরা এলাকাবাসী সবাই বুঝতে পারছি। কিন্তু আমাদের যেহেতু জানা আছে এখানে গ্যাস লাইটারের কারখানা, এজন্য ভয়ে কেউ কাছে আসার সাহস পাই নাই।’
স্থানীয়রা বলছেন, আগুন লাগার সময় কারখানাটিতে অন্তত ৩০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাদের অনেকেই বের হতে পারেননি।
স্থানীয় এক ব্যক্ত বলেন, ‘এখান দিয়া একটু একটু আগুন দেখলাম।। তারপর দেখি ৫ মিনিটের মধ্যে সব ধ্বংস অইয়া গেল। সব ছাড়খাড় হইয়া গেছে। দেখছি এখান দিয়া দেখছি দুই–তিনজন বাইর হইছে। আর কর্মচারী সব ভিতরেই ছিল। কেউ বাইর অইতে পারে নাই।’
বেলা আড়াইটায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। পুরোপুরি নেভানো হয় হয় বিকেল ৪টার দিকে।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন বলেন, ‘মেসেজ পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের কেরাণীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস আসে। তারা তিনটা ইউনিট নিয়ে আসে এবং কাজ করা শুরু করে। ৪টা ৪৪ মিনিটে আগুন স্মপূর্ণ নির্বাপণ করি। আগুন নির্বাপণ করার পর আমরা সার্চ করি। সার্চ করার পর এক পর্যায়ে আমরা ৫টা মরদেহ পাই। এগুলো উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হতাহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। যারা আহত হয়েছে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। যারা আহত আছে প্রত্যেকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। এবং এটা আইনানুগ ব্যবস্থা করা হবে– কীভাবে সে এটা করেছিল অবৈধভাবে। আগে একটা আগুন লাগার পরেও।’
আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস। ঘটনার পর কারখানাটিতে পাওয়া যায়নি মালিকপক্ষকে।



