বছরের ছয় থেকে আট মাস পানিবন্দি থাকেন খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলার লক্ষাধিক মানুষ। বিলডাকাতিয়া এলাকার খাল দখল ও নদী ভরাটের কারণে অর্ধশতাধিক গ্রামের পানি নামার পথ বন্ধ। পানির নিচে ৩০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি। কয়েক দশক ধরে চলা এ দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিলডাকাতিয়া এলাকার কৃষ্ণ নগর গ্রামের মাঠ-ঘাট পানিতে তলিয়ে আছে। সড়ক পেরিয়ে বসত বাড়িতেও ঢুকেছে পানি। বছরের ছয় থেকে আট মাস এই এলাকার মানুষ পানিবন্দী থাকে। এলাকার শৈলমারী, ভদ্রা সহ ছয়টি নদী ভরাট হওয়া, মাছ চাষের জন্য খাল ইজারা দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ এবং স্লুইস গেট অকেজো হওয়ায় এই জলাবদ্ধতা। পানিতে তলিয়ে থাকে দুই উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের ৩০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘খেটে খাওয়া ছাড়া আমাদের কোনো পথ নেই। এই অবস্থায় বিল-খাল তলিয়ে গেছে।’
স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘এই অবস্থায় বাইরে যাওয়া সমস্যা, রান্না করার সমস্যা, আমাদের ঘরের ভেতর গেলে বুঝতে পারবেন কী সমস্যার মধ্যে আমরা থাকছি।’
আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের এখানে ত্রাণ সহায়তার সমস্যা রয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার এই অবস্থার একটা সমাধান আমরা চাই।’
লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী থাকলেও তাদের জন্য নেই সরকারি সহায়তা। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়ে জেলা প্রশাসন।
খুলনা জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন আছে। তাদের সাথে সেখানতার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আছেন। তাদের মাধ্যমে আমরা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সহযোগীতা করে থাকি এবং সামনে সহায়তা অব্যাহত থাকবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে ইন্ট্রিগ্রেশন অব ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট এর একটি স্টাডি শেষ হবে ডিসেম্বরে। এরপর নেওয়া হবে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। এছাড়া, জলাধার সংস্কারে ৪০ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব আছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে।
খুলনা সার্কেলের যশোর পওরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বি এম আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমাদের বর্তমানে একটা প্রকল্প দেওয়া আছে। ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স্বল্পমেয়াদী একটা সমাধান হবে আশাকরি। আর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার জন্য আমাদের আইডব্লিএম কর্তৃক একটা স্ট্যাডি চলছে। ওই স্ট্যাডির সুপারিশের আলোকে আমরা মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করব।’



