আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মাগুরা জেলার মোট ৩০১টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় মাগুরা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় এসব ক্যামেরা স্থাপনের কার্যক্রম তদারকি করে। তবে স্থাপনের পরপরই জেলার দুটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পৃথক দুটি ঘটনার মধ্যে একটি ঘটেছে মাগুরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট ফালিয়া স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে রাতের আঁধারে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়েছে। অপর ঘটনাটি ঘটে মাগুরা সদরের কছুন্দি ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যেখানে শিশুদের লাঠির ধাক্কায় দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা পড়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার দুই দিন পর বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসন তৎপর হয়। ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাগুরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তবে ঘটনার চার দিন পার হলেও সংশ্লিষ্ট ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভাঙা সিসি ক্যামেরাগুলো এখনও মেরামত বা পুনঃস্থাপন করা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা নামমাত্র। এ ছাড়া বিদ্যালয়গুলো লোকালয়ের আড়ালে হওয়ায় আগে থেকেই চুরি ও ভাঙচুরের আশঙ্কা ছিল। এসব কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, মাগুরা জেলার ৩০১টি ভোটকেন্দ্রের অনেকগুলোই যদি লোকালয় থেকে দূরে অবস্থিত হয়, তাহলে সেখানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে? সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনার পরও অন্য ভোটকেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মেহেরুন নাহার বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরের বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ করেছে। পাশাপাশি অন্যান্য ভোটকেন্দ্রগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।’



