বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াতে ইসলামী এবং একটিতে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। বাগেরহাটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় বেসরকারি এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
বাগেরহাট-১ ও ২ আসনে প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলো। এসব আসনে বিগত কোনো জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত জয়ের দেখা পায়নি।
জামায়াতে ইসলামীর এই তিন বিজয়ীর মধ্যে শেখ মনজুরুল হক রাহাদ ও মশিউর রহমান খান এবং বিএনপির শেখ ফরিদুল ইসলাম নতুন মুখ। আর আব্দুল আলীম ২০১৮ সালে দল থেকে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে পরিচিত বাগেরহাট-১ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে রীতিমত চমক সৃষ্টি করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মশিউর রহমান খান।
বাগেরহাট-১ (চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. মশিউর রহমান খান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এক লাখ ১৭ হাজার ৫২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কপিল কৃষ্ণ মন্ডল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ১৪ হাজার ৩২৩ ভোট।
বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর- কচুয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর শেখ মনজুরুল হক রাহাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এক লাখ ১৭ হাজার ৭০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪০৯ ভোট।
বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনে বিএনপির শেখ ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ২ হাজার ৬৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ সেখ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৫৫০ ভোট।
বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল আলীম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোমনাথ দে ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩২৬ ভোট।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির প্রার্থীদের হারিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও একটি জামায়াতে ইসলামীকে হারিয়ে বিএনপির প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।’



