বাগেরহাটের মোংলায় দস্যু দমনে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শীল্ড’ নামের অভিযান শুরু হয়েছে। এই যৌথ অভিযানে অংশ নিয়েছে নৌবাহিনী, র্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ, বন বিভাগ এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।
আজ রোববার দুপুরে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, অভিযানকালে করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সর্বমোট ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসময় ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এছাড়াও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি ফাঁদসহ বিপুল অবৈধ সামগ্রী জব্দ এবং ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা সমমূল্যের অবৈধ জাল ও বিপুল রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে।
বনদস্যুবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসাবে হারবারিয়া, কৈখালী, কয়রা, নলিয়ান, মান্দারবাড়ি ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ সমগ্র সুন্দরবন এলাকায় বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের কার্যকর অভিযানের ফলে মৎস্যজীবী, বাওয়ালি ও স্থানীয় জনগণের ওপর দস্যুদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যহারে কমে এসেছে এবং চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ ব্যাপকহারে হ্রাস পাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এছাড়া নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে সুন্দরবন এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নত হচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে সংবাদ সম্মেলনা দাবি করা হয়।
ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম আরও জানান, বনবিভাগ যদি আমাদের আশানুরূপভাবে সহযোগিতা করতো তাহলে আমাদের কাজ আরও সহজ হতো।



