শুষ্ক মৌসুম এলেই প্রমত্তা গড়াই পরিণত হয় মরা খালে। কুষ্টিয়ায় নদীটির উৎসমুখ থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকা শুকিয়ে গেছে। শতকোটি টাকায় কয়েক দফা খননের পরও কাটেনি নাব্যতা সংকট। বিরূপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশ, কৃষি জমি ও স্থানীয়দের জীবিকার ওপর। মিঠাপানির অন্যতম উৎস এই নদীটির মৃতপ্রায় অবস্থার জন্য অপরিকল্পিত ড্রেজিং আর অনিয়ম-দুর্নীতিকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
পদ্মার একটি প্রধান শাখানদী গড়াই। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ও মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকায় পদ্মা থেকে গড়াইয়ের উৎপত্তি। পরে মাগুরা, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, খুলনা হয়ে সুন্দরবনে গিয়ে মিশেছে।
নাব্যতা সংকটের কারণে নদীটি খননে কয়েক দফা প্রকল্প হাতে নেয় বিগত সরকার। শত কোটি টাকা ব্যয় হলেও শুষ্ক মৌসুমে বন্ধ হয়ে যায় প্রবাহ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেজিং ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সফল হয়নি গড়াই পুনরুদ্ধার প্রকল্প।
স্থানীয়রা বলছেন, নদী মাঝে মাঝে কাটা হয়, বালি ফেলা হয় সেটা আবার পানি এসে ধুয়ে যায়। ধীরে ধীরে এ এলাকা মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম জানান, চলতি বছর বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় বন্ধ রয়েছে খননকাজ। আগামী বছর বরাদ্দ পেলে ফের কাজ শুরু করা হবে।
নদী গবেষকদের মতে, শুধু খনন করলেই হবে না, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা। সেই সঙ্গে অনিয়ম দুর্নীতি ঠেকাতে নিতে হবে পদক্ষেপ।
কুষ্টিয়া নদী গবেষক গৌতম কুমার রায় বলেন, ‘কৌশলগত যে নির্বুদ্ধিতা হতে পারে সেটা দুর্নীতির কারণেক। সে কারণে আমরা নদী খননে কোনো সুফল পাচ্ছি না। বছর বছর টাকা খরচ করছি, সময় নষ্ট করছি কিন্তু সব কিছুই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।’
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে মিঠাপানির অন্যতম উৎস এই নদী। সুন্দরবনে মিঠাপানির চাহিদার বড় অংশই পূরণ করে গড়াই।



