অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত ভবনে ও শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের অভিযোগে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখার সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। রোববার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি সোমবার বিকেলে বাগেরহাট স্বাস্থ্য বিভাগে পৌঁছায়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ডা. কামাল হোসেন মুফতির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার আকস্মিক পরিদর্শনের সময় পরিত্যক্ত ভবন ও শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধসহ চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণের বিষয়টি ধরা পড়ে, যা সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারার বিধান অনুযায়ী, অভিযোগের গুরুত্ব, তদন্তে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা এবং দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ হাতে পেয়েছি। প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আকস্মিকভাবে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার পরিদর্শনে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেন। পরিত্যক্ত একটি ভবনের কক্ষ খুলে সেখানে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, স্যালাইন, সিরিঞ্জসহ চিকিৎসাসামগ্রী মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়। এমনকি শৌচাগারেও স্যালাইন ও ওষুধ সংরক্ষিত ছিল। ঘটনাটি দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় পরিচালককে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।
এর পরদিন রোববার খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (স্বাস্থ্য) শফিউর রহমান এবং বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুর রহমান হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন।



