পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষায় ৩.৮৩ পেয়ে পাস করেছে সিয়াম মিয়া। হাত না থাকলেও বন্ধ করেননি লেখাপড়া। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে সকল প্রতিবন্ধকতা। সিয়াম জামালপুরের সরিষাবাড়ীর চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয় এবছর।
উদ্যেমী সিয়াম মিয়া পা দিয়ে লিখে পিএসসি পরীক্ষায় পেয়েছিলেন জিপিএ ৪.৮৩।
তবে, ফলাফল আশানুরুপ না হলেও এই ফলাফলেই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে সিয়াম ও তার পরিবার। আগামীতে স্থানীয় যেকোনো একটি কলেজে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে সিয়াম মিয়ার পা দিয়ে লেখার বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন। মুহুর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। জীবন যুদ্ধে হার না মেনে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ায় হাজারো মানুষের প্রশংসায় ভূষিত হয় সিয়াম মিয়া।
রোববার ফলাফল প্রকাশের পর সিয়ামের বাড়িতে ভিড় জমায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও গণমাধ্যম কর্মীরা।
এসময় সিয়াম মিয়া বলেন, ‘শুধু গণিত আর বাংলা পরীক্ষা খারাপ হয়েছিলো। বাকি সব পরীক্ষা ভালো হয়েছিলো। যাই হোক,আমার যে রেজাল্ট হয়েছে। আমি তাতেই খুশি। আমি কোনো চ্যালেঞ্জে যাবো না। এবারের বিষয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে আরো ভালো করার চেষ্টা করবো।’
সিয়ামের বাবা জিন্নাহ মিয়া অসুস্থ থাকায় মা জোৎস্না বেগম করেন শ্রমিকের কাজ। ভূমিহীন এই পরিবারের পেটের ক্ষুধা মেটানোয় যখন দায়, সেখানে সিয়ামের লেখাপড়ার স্বপ্ন পূরণে হতাশ তারা।
সিয়ামের মা জোৎস্না বেগম বলেন, ‘সিয়াম যে রেজাল্ট করেছে আমি তাতেই খুশি। এখন সামনের দিনে ভালো করলে হয়। এখন সামনে সিয়ামকে কলেজে ভর্তি করাতে হবে। সেই টাকাটা নেই আমার কাছে।’
২০০৬ সালের ২৯ জানুয়ারি জামালপুরের সরিষাবাড়ির উদানপাড়া গ্রামে জিন্নাহ-জোৎস্না দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করে সিয়াম মিয়া। জন্মের পর থেকেই একটি হাত নেই সিয়াম মিয়ার, আরেকটি অস্বাভাবিক ছোট। দুই হাতের শক্তি ছাড়াই বেড়ে উঠে সিয়াম মিয়া। লেখাপড়ার অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মানে তার প্রতিবন্ধকতা।
দুই হাত না থাকায় পা দিয়ে লেখা শুরু করে সিয়াম। একে একে পিএসসি, জিএসসি’র পর এখন সিয়াম বাম পা দিয়ে দিচ্ছেন এসএসসি পরীক্ষা। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট সিয়াম মিয়া।
চাপারকোনা মহেশচন্দ্র স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী সিয়াম মিয়া মানবিক বিভাগ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ভবিষ্যতে মেধাবী এই ছাত্রের লেখাপড়ায় সহায়তায় এগিয়ে আসবে সরকার এমনটা প্রত্যাশা সকলের।



