নেত্রকোণায় টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে জেলার সদর, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা,পূর্বধলা, বারহাট্টায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে দুর্ভোগে রয়েছেন প্রায় এক লাখ পানিবন্দি মানুষ। মানুষের খাবারের পাশাপাশি গো খাদ্য সংকট, বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। গ্রামীণ সড়ক ডুবে গেছে। জেলার অনেক জায়গায় আমন ও শাক-সবজি খেত তলিয়ে গেছে। এতে করে কৃষকেরা পড়েছেন বিপাকে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির আমন ও ১৬৭ হেক্টর জমির শাক-সবজি তলিয়ে গেছে।
এদিকে দুর্গম এলাকার বানভাসি মানুষেরা ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টা স্বীকার করে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যার আকার বেশি হওয়ায় তারা জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বন্যা কবলিত এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া পুকুরের মাছ পানিতে বের হয়ে গেছে। গরু-বাছুরের কষ্ট হচ্ছে। মানুষের রান্নাবান্না হচ্ছে না, চিরা-মুড়ি খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। বাড়িঘর তো পানির তলে রয়েছেই।’
কেগাতি ইউনিয়নের এক যুবক বলেন, ‘গতকালকেও এলাকার কিছু ধান খেত ভেসে ছিল। আজ সব ডুবে গেছে। আমাদের কেগাতি ইউনিয়নের ৮০ ভাগ লোক এই ফসলের উপর নির্ভরশীল। এই ফসলগুলো যদি এই অবস্থায় নষ্ট হয়ে যায় তাহলে এই এলাকার মানুষ কীভাবে চলবে, এইটা এখনও আমরা কিছু বলতে পারছি না। তাই আমরা সরকারের কাছে নিবেদন করছি, আমাদেরকে যেন আগামী দিনে চলার জন্য একটু সহযোগিতা করে।’
এ ছাড়া দুর্গম এলাকার বানভাসি অনেক মানুষ ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই।
নেত্রকোণা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া তাবাসসুম বলেন, ‘আসলে একই সাথে চারটি ইউনিয়ন এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আমরা প্রত্যেকটি বাড়ি বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করছি। গত দুই-তিন দিন ধরে আমাদের ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। কিছু অভিযোগ হয়ত থাকতে পারে। আমরা সেই অভিযোগগুলোর প্রত্যেকটি আমলে নিচ্ছি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সকলের সহযোগিতায় এই দুর্যোগটি মোকাবিলার চেষ্টা করছি।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান জানিয়েছেন, জেলার প্রধান নদী সোমেশ্বরী ও কংশের পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও কলমাকান্দায় উপদাখালী নদীর পানি বেড়েই চলেছে।



