নেত্রকোণার ‘রিপন ভিডিও’ নামের সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠার ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এর আগে এই ঘটনায় থানায় না গিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে। ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন চলে যান রিপন মিয়া। তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, গতকাল রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় রিপন মিয়াকে আসামি ছাড়াও ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাতে সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, শনিবার রাতে রিপন মিয়া তাদের বাড়িতে যান। তখন ওই স্কুলছাত্রী বাড়ির উঠানে রান্না করছিল। তার বাবা স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকানে এবং মা কাজে বাইরে ছিলেন। এ সময় ওই ছাত্রীকে জোর করে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন রিপন। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে রিপন মিয়া পালিয়ে যান। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সোমবার রাতে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সালিস বসে।
পরিবারের দাবি, সেখানে রিপন মিয়া অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সালিসের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন মিয়া অভিযোগ স্বীকার করে সেখানে থাকা উপস্থিত লোকজনের কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’
ওসি আবুল খায়ের বলেন, মামলা গ্রহণের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কাঠমিস্ত্রির কাজ করা রিপন মিয়া ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ ও ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’- এ ধরনের সংলাপের ভিডিও দিয়ে পরিচিতি পান। তার ‘রিপন মিয়া’ নামে একটি ফেইসবুক পেজ রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৯ লাখ ফলোয়ার রয়েছে।



