নেত্রকোণার দুর্গাপুরে গলা টিপে ও কুঠারের আঘাতে শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই জামাতাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার চণ্ডীগড় ইউনিয়নের ফুলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত জামাই শাহেদ বিশ্বাস ওরফে রফিকুল ইসলামকে (৩৮) আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
আটক শাহেদ বিশ্বাস উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের কনুয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। বাকি আটক দুইজন হলেন–একই এলাকার শাহেরা খাতুন (৫৫) ও তাসলিমা আক্তার (২৭)। নিহত সাহারা খাতুন (৫৮) ফুলপুর গ্রামের আব্দুল মোতালেবের স্ত্রী।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০-১২ বছর আগে শাহেদের সঙ্গে সাহারা খাতুনের মেয়ের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর শাহেদ স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। একপর্যায়ে সাহারার স্বামী আব্দুল মোতালেব প্রায় ২০০ শতক ফসলি জামাতা শাহেদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন।
কয়েক বছর আগে শাহেদের স্ত্রী মারা যান। পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করলেও প্রথম শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতে থাকেন। সম্প্রতি ওই জমি নিয়ে শাহেদের সঙ্গে শ্বশুর-শাশুড়ির বিরোধ চলছিল। জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিস বৈঠকও হয়।
সর্বশেষ স্থানীয় লোকজন শাহেদকে জমিটি দখলে দেওয়ার জন্য আব্দুল মোতালেব ও সাহারা খাতুনকে রাজি করান। চলতি মৌসুমে শাহেদকে ওই জমি আবাদ করতে দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে শনিবার সন্ধ্যার পর জমি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে গলাটিপে ও কুঠার দিয়ে সাহারা খাতুনের মাথায় আঘাত করেন শাহেদ। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জামাতাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



