রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ঘটনায় পূর্বে দায়ের হওয়া একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় আনাস ও মাহমুদুল হাসান নামে দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রক্টর দপ্তর, রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সংঘটিত হামলা ও মারধরের ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটি। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষ পরিদর্শন করেছে। আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী একই বিভাগের শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে নিয়ে বৈঠকে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। বৈঠকে মহসিনের সঙ্গে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আনাস, হাসিব এবং সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মহসিন অভিযোগ অস্বীকার করলে প্রক্টরের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।
পরদিন সোমবার একই বিষয়ে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এসজিএস) এস এম সালমান সাব্বির আনাসকে ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ করেন। পরে তার মোবাইল ফোনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তোলা ছবি পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়। এ সময় প্রক্টর কার্যালয়েই আনাসকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।
এর পর আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন রাকসু নেতারা। এতে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব আহত হন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আবারও মুখোমুখি অবস্থান নেয় তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রক্টর কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, এরপর একদল শিক্ষার্থী পাঠকক্ষে প্রবেশ করে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজনকে মারধর করে। এ সময় গ্রন্থাগারে অধ্যয়নরত অন্য শিক্ষার্থীদেরও মারধরের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত মাহমুদুল হাসানকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও তার ওপর পুনরায় হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পূর্বে দায়ের হওয়া একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় আনাস ও মাহমুদুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



