পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় চায়না রাইফেলের ১৫ রাউন্ড গুলি ও দেশীয় অস্ত্র জব্দ করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ।
পুলিশ জানায়, রোববার রাতে উপজেলার হাদল ইউনিয়নের কুচলিয়া গ্রামের একটি বটগাছের নিচে লুকিয়ে রাখা বস্তা থেকে এসব গুলি ও অস্ত্র জব্দ করা হয়।
ওসি মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ জানান, হাদল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত ও বিল-অধ্যুষিত এলাকায় সর্বহারা-নকশালপন্থী একটি সশস্ত্র চরমপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতার তথ্য ছিল। আধিপত্য বিস্তার, গোলাগুলি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়।
তিনি জানান, গত ২৯ আগস্ট ফরিদপুর থানায় যোগদানের পর হাদল ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ তৎপরতা বাড়িয়েছে। প্রত্যন্ত ও বিল-অধ্যুষিত হওয়ায় ওই এলাকায় কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপের তৎপরতা রয়েছে। এসব গ্রুপ অস্ত্রের মুখে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে খাল-বিল ও জলাশয় দখল, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।
ওসি আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি সশস্ত্র গ্রুপ অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করছে বলে জানতে পারে পুলিশ। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রোববার রাতে কুচলিয়া এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি বটগাছের নিচে লুকিয়ে রাখা বস্তা থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো জব্দ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকার একটি নৌকাবাইচও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওসি।
পুলিশের দাবি, হাদল এলাকায় এর আগেও কয়েক দফা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ওই এলাকায় হত্যা ও গুমের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় ফরিদপুর থানায় অস্ত্র ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—চায়না রাইফেলের ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি চাপাতি, একটি বাট ও একটি ছুরি এবং বিভিন্ন আকারের তিনটি ধারালো দা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এসআই আরিফুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলামসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।


