জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে মারা যান পোশাক শ্রমিক সুমন ইসলাম। পঞ্চগড়ের সুমন চাকরি করতেন আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টসে। ৫ আগস্ট শহীদ হন তিনি। পরিবারের কাছে সুমন এখন কেবলই স্মৃতি। একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে দিশাহারা স্বজনেরা। হত্যার ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি তাদের।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সুমন ইসলাম ঢাকায় কাজ করতেন একটি পোশাক কারখানায়। বৃদ্ধ বাবা-মা আর তিন বোনের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তার। তবে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় গুলিতে মারা যান তিনি। ৩ দিন পর মরদেহ পায় পরিবার। বছর পেরিয়ে গেলেও, এখনও প্রতিদিন গ্রামের পথের দিকে তাকিয়ে থাকেন সুমনের মা-বাবা। একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে দিশাহারা তারা।
সুমনের বৃদ্ধ বাবা বলেন, ‘সুমনই ছিল আমার সংসারের একমাত্র (উপার্জনক্ষম)। সেই সংসার পরিচালনা করত। আমি মনে করি সে মরে নাই, সে আছে, এই ধান্দা (ভাবনা) নিয়ে আমি বেঁচে আছি।’
ছেলের মুখ এখনও ভেসে ওঠে সুমনের মায়ের চোখে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁর মা বলেন, ‘তার রূপ চেহারা দেখলে আমার কলিজা ফাটি যায়। আর কি কমু বাবা!’ এই বলে আবার কান্না শুরু করেন তিনি।
হত্যায় জড়িত সবার বিচারের দাবি স্থানীয়দের। পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তার দাবি জানান তারা। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘এই পরিবারের একটাই ছেলে ছিল, সেই মারা গেছে। এখন তার বাবা-মাকে দেখার মতো আর কেউ নাই।’
পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘যখনই আমার শহীদ সুমনের বাসায় যাই, তার পরিবারের খোঁজ-খবর নিতে যাই, তখন তাঁর সন্তানহারা বাবার দিকে তাকাই, সত্যি নিজেকে খুব অপরাধী লাগে।’
অভ্যুত্থানে হতাহতদের সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এ ছাড়া জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও সহায়তা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক সাবেত আলী বলেন, ‘শহীদ সুমনের পরিবারসহ বাকি সকল শহীদ দের পরিবারকে আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করেছি। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে এই পরিবারগুলোকে আর্থিক পণোদনা প্রদান করা হয়েছে।’
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে পঞ্চগড়ে মারা যান ৫ জন। ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় নিহত হন তারা। স্বজনদের দাবি, তাদের আত্মদান যেন বৃথা না যায়।



