পঞ্চগড়ে তাপমাত্রার পারদ নেমেছে ৭ এর ঘরে। মৃদু থেকে শুরু হয়েছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। চারদিন ধরে ঠিকমতো সূর্যের দেখা নেই। সকাল-সন্ধ্যা ঘনকুয়াশা আর উত্তরের হিমশীতল বাতাসে হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে।
বুধবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন (রাতের) তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়ায় আবহাওয়া অফিস। মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি। দিনের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৭ ডিগ্রি।
পঞ্চগড়ে টানা চারদিন ধরেই দিনভর মেঘাচ্ছন্ন থাকছে আকাশ। দিনে হালকা কুয়াশার সঙ্গে হিমশীতল বাতাসে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। রাতেও বৃষ্টির মতো টিপটিপ করে কুয়াশা ঝরেছে।
বুধবারও বেলা ১১টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। দিনের আলোতেও সড়ক মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
শহরের থেকে গ্রামাঞ্চলের মানুষজন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। কনকনে শীতে চরম দূর্ভোগ দেখা দেয় খেটে খাওয়ার মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে দৈনন্দিন আয় কমে গেছে রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক চালকদের।
পঞ্চগড়ের গড়ের ডাঙ্গা এলাকার ইজিবাইক চালক ফয়জুল ইসলাম বলেন, ‘শীতের সময় এমনিতেই আমাদের ভাড়া কম হয়। কয়েকদিন ধরেই দিনরাত ঘনকুয়াশা। বিশেষ করে বাতাসের কারণে খুব ঠান্ডা। এই ঠান্ডার জন্য আমরাই বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ রিকশায় উঠে না। আমাদের প্রতিদিন আয় হতো ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু বর্তমানে ৩০০ টাকা ইনকাম করতেই দিন শেষ হয়ে যায়। খুব কষ্টে আছি পরিবার নিয়ে।’
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ এর মধ্যে থাকলে ওই এলাকা দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। বুধবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’
আগামী দুই–তিনদিন তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করেন জিতেন্দ্রনাথ রায়।



