যন্ত্র আছে, অপারেটর নেই ফলে কোচ ও ওয়াগন মেরামতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে। সেই কার্যক্রমেও ধীর গতি। ২৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই কারখানাটিতে মোট জনবল থাকার কথা ২৮৫৯ জন। আছেন মাত্র ৭১৬ জন। কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল সংকট কেটে গেলে কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা জনবল সংকটে প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে এর কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও দক্ষ কারিগর ও অপারেটর নেই বললেই চলে। মোট লোকবলের মাত্র ৩০ শতাংশ নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে রেলওয়ে কারখানাটি।
কারখানায় ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণে মোট মেশিন রয়েছে ৭৭৮টি, যার মধ্যে অকেজো ১৯৬টি। আর ৫৮৩টি সচল মেশিন পরিচালনায় রয়েছে মাত্র ৩৬ জন শ্রমিক।
শ্রমিকেরা জানান, কারখানায় নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া না হলে সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
এমন পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন কারখানার কর্মকর্তারা।
ক্যারেজ শপের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘উৎপাদনের জন্য যেমন কাঁচামাল প্রয়োজন ঠিক তেমনি জনবলও প্রয়োজন। লোকবল কম থাকলে প্রতিটি মেশিন অপারেট করা সম্ভব নয়। সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, যেন প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করে কারখানার কাজ গতিশীল করা হয়।’
মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান, জানিয়েছেন বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সূফী নুর মুহাম্মদ বলেন, মেশিন চালানোর জন্য স্টাফ নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কয়েকজন ট্রেড অ্যাপ্রেনটিস নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কাজে যোগ দিলে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মেশিন অপারেশনের কাজ করা হবে।
১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় শ্রমিক-কর্মচারীর পদ রয়েছে ২৮৫৯টি, কর্মরত আছেন মাত্র ৭১৬ জন।



