সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি মঙ্গলবার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে আজ সকাল থেকে পানি স্থির অবস্থায় আছে। অন্যদিকে জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এসব উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ও হাওর এলাকার গ্রামগুলোতে পানি ছুঁই ছুঁই থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় এক লাখের বেশি মানুষ।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রাধানগর গ্রামের রহিমা খাতুন বলেন, ‘বাড়ির সামনে পানি তাই ঘর থেকে বের হতে পারছি না। নিজের নৌকাও নাই তাই বড় সমস্যায় আছি।’
উপজেলার লালপুর গ্রামের আব্দুল হাসিম বলেন, ‘পানি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে আমরা বেশ আতঙ্কিত আছি। আরেকটু পানি বাড়লেই ঘরে পানি উঠে যাবে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, আজ বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সুরমা নদীর ছাতক উপজেলার পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে এখনও বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় চলাচলের রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ৪ ইউনিয়নের জনসাধারণের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বন্ধ রয়েছে ছোট-বড় সকল ধরনের পরিবহন চলাচল।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকার রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবৎ ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় তার সামনে একটি বেড়িবাঁধ দেওয়া হয়। কিন্তু পাহাড়ি ঢলের আঘাতে প্রথমে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। পরে গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটিও ধীরে ধীরে ভেঙে যায়। এতে এই রাস্তায় পরিবহন চলাচল একেবারে অনুপযোগী হয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে সুরমা, লক্ষ্মীপুর, বোগলাবাজার ইউনিয়নে জনসাধারণের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামার কারণেই জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে আগামি ৪৮ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের সকল নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এই জেলায় স্বল্পমেয়াদি একটা বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা জানালেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমরা সকল প্রকার প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের কাছে খাদ্য মজুত আছে। আরও খাদ্যের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’



