মৌলভীবাজার শহরে ব্যবসায়ী শাহ ফয়জুর রহমান রুবেল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল আসামি জুহেল মিয়া ওরফে আলিফকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দুপুরে শ্রীমঙ্গল উপজেলার লইয়ারকুল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত ৭ আগস্ট সন্ধ্যায় পৌর শহরের শমসেরনগর রোডে সিএনজি স্ট্যান্ডসংলগ্ন নিজ দোকান ‘এফ রহমান ট্রেডিং’-এ ধারাল অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন দোকান মালিক শাহ ফয়জুর রহমান রুবেল (৫৫)। হত্যাকাণ্ডের পর দোকানের ক্যাশ থেকে নগদ ১১০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় আসামি জুহেল মিয়া। সে যাত্রী সেজে একটি রিকশায় উঠে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
নিহত রুবেল মৌলভীবাজার শহরের শ্যামলী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই জেলা পুলিশের একাধিক টিম গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আসামিকে শনাক্ত করে।
তিনি জানান, হত্যার দিন জুহেল পালানোর সময় একটি রিকশায় ওঠে। প্রথমে সেই রিকশাচালককে শনাক্ত করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জুহেলের ছবি সংগ্রহ করে পুলিশ। কয়েক দিনের অনুসন্ধানের পর অবশেষে শ্রীমঙ্গলে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুহেল স্বীকার করেছে, আর্থিক সংকট মেটাতে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সে মৌলভীবাজার শহরে আসে। প্রথম দিন (৬ আগস্ট) সুযোগ না পেয়ে ফিরে গেলেও ৭ আগস্ট আবার শহরে এসে এফ রহমান ট্রেডিংয়ে দোকান মালিক রুবেলকে একা পেয়ে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্য ধারাল অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে।
পুলিশ জানায়, জুহেল পূর্বে একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করলেও বর্তমানে বেকার ও হতাশাগ্রস্ত ছিল। তার বাবা দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণেই সে অপরাধের পথে পা বাড়ায়।



