হবিগঞ্জ জেলার চারটি সংসদীয় আসনে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। চার আসনে ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি প্রার্থীদের সাথে জামায়াত, খেলাফত মজলিস ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। দুটি আসনে বিএনপি প্রার্থীদের অবস্থান বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও বাকি দুই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জের চারটি আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে শহর থেকে গ্রাম সবখানেই চলছে প্রচার। ভোটারদের মন জয়ে দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা, দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি।
ভোটারেরা বলছেন, নারী ও বেকার তরুণদের পাশে থাকবে, এমন যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকেই তাঁরা ভোট দিতে চান।
আবার অনেকে বলছেন, মার্কা নয় ব্যক্তি, যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা দেখেই ভোট দেবেন তারা।
হবিগঞ্জ-২ ও ৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। ২ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা ডা. আবু মনসুর সাখায়াত হাসান এবং ৩ আসনে জনপ্রিয় নেতা জি কে গউছ বড় ব্যবধানে জয়ের আশা করছেন। তবে ৩ আসনে জামায়াতের কাজী মহসিন আহমদও চষে বেড়াচ্ছেন পুরো নির্বাচনী এলাকা।
ডা. আবু মনসুর সাখায়াত হাসান জীবন বলেন, ‘আমি প্রার্থী হবার পর থেকে এখানের সকলের সঙ্গে দেখা- সাক্ষাৎ করছি। যে সারা পাচ্ছি তাতে আমি আশা করি, ধানের শীষ বিজয়ী হবে। ধর্মকে পুঁজি করে ফায়দা হাসিলের পক্ষে নই। আমরা আগামী দিনে যুব ও নারী সমাজের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।’
জামায়াতে ইসলামী ৩ আসনের প্রার্থী কাজী মহসিন আহমদ বলেন, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। আমাদের প্রতিশ্রুতি মানুষের কাছে উপস্থাপন করছি। মানুষ অন্যদের দেখেছে এবার আমাদের দেখতে চায়।’
তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে হবিগঞ্জ-১ ও ৪ আসন। হবিগঞ্জ-১ এ বিএনপি প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়াকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে নিজ দলেরই বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়াকে। আর হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির সৈয়দ মো. ফয়সলের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইসলামী ফ্রন্টের আল্লামা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী এবং খেলাফত মজলিসের ড. আহমদ আব্দুল কাদের।
স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে অবহেলিত এলাকার রাস্তা-ঘাট মেরামত করা। নবীগঞ্জ বাহুবল এলাকা অবহেলিত। আগের জনপ্রতিনিধিরা কি করেছেন তা জানি না। আমি এলাকার উন্নয়ন করেছি। বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’
অন্যদিকে, ধর্মভিত্তিক দলগুলোর প্রার্থীরা ইনসাফ ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।



