হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে মনজুর মিয়া নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।
রোববার দুপুরে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছে।
নিহত মনজুর মিয়া বেগমপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটককৃতরা হলো- বেগমপুর গ্রামের মৃত সিরাজুল হকের ছেলে জয়নাল মিয়া (৪০) ও হেলাল আহমেদের ছেলে রাফি আহমেদ (২৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেগমপুর গ্রামের একটি সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে খলিলুর রহমান ভোগদখল করে আসছিলেন। সম্প্রতি প্রতিপক্ষ হেলাল আহমেদ ওই জমির বন্দোবস্ত নিয়েছেন বলে দাবি করলে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
গতকাল দুপুরে হেলাল আহমেদের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমিতে গিয়ে খলিলুর রহমানের লোকজনকে কাজ করতে বাধা দেয়। এ নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের হামলায় মনজুর মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পরবর্তীতে এসআই জয়ন্ত কুমারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জয়নাল মিয়া (৪০) ও রাফি আহমেদ (২৪) নামে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, সরকারি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।



