দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহে অক্সিজেন সংকটে মারা যাচ্ছে সাদা সোনা খ্যাত বাগদা চিংড়ি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাতক্ষীরার চাষিরা। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার দেখা দিয়েছে শঙ্কা। চিংড়ির মৃত্যুহার কমাতে ঘেরে পানির গভীরতা বৃদ্ধি, অক্সিজেন ট্যাবলেট দেওয়ার পরামর্শ মৎস্য কর্মকর্তাদের।
চলতি বছরে সাতক্ষীরা জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৫৫ হাজার ঘেরে বাগদা চাষ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার টন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাগদা চিংড়ি চাষ হয়েছে শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায়। চলতি মৌসুমে ঘেরে দ্বিতীয় দফায় ছাড়া রেণুর বেশিরভাগ তীব্র গরমে মারা গেছে।
চাষিরা বলছেন, অত্যাধিক তাপপ্রবাহের কারণে মাছ মারা যাচ্ছে। ঘেরে আটন পাতলে মরা মাছ পাওয়া যাচ্ছে। ঘেরে যে রেণু ছাড়া হয়েছে তা একটু বড় হয়েই মারা যাচ্ছে।
খালগুলো মুক্ত থাকলে এই গরমে বাগদা চিংড়ি রক্ষায় পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যেত বলে মনে করেন চাষিরা। তারা বলছেন, এবার তাদের লোকশানগুনতে হবে। শ্রমিকদের মজুরিও দিতে পারছেন না।
তাপপ্রবাহ, পর্যাপ্ত পানি না থাকা এবং অতিরিক্ত লবণের কারণে বেশি মাছ মারা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মৎস কর্মকর্তা।
জেলা মৎস কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের যে বিরূপ প্রভাব তা মোকাবিলা করতে হলে আগামীতেও ঘেরের গভীরতা ৪ থেকে ৫ ফুট রাখতে হবে। অক্সিজেন ট্যাবলেট দিতে হবে। খাবার কম দিতে হবে। আর পারলে ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
রপ্তানিজাত চিংড়ির এক-তৃতীয়াংশ জোগান দেয় সাতক্ষীরা জেলা।



