আসন্ন রমজানে তেল, চিনির মত ভোগ্যপণ্যের কোন ঘাটতি হবে না। সরবরাহ ঠিক রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, মিল পর্যায়ে সিন্ডিকেটের কোন সুযোগ নেই, তবে খুচরা বাজারে বাড়তি মুনাফা করা হয়। এক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি ও তদারকি বাড়ানোর তাগিদ তার।
দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজারে পরিচিত নাম ফ্রেশ। ভোজ্যতেল, চা, চিনি, আটা, ময়দাসহ কয়েক ডজন পণ্যের বাজারজাতকারী মেঘনা শিল্প গ্রুপের ব্র্যান্ড-ফ্রেশ। নতুন নতুন পণ্য নিয়ে দেশে-বিদেশে বাজার সম্প্রসারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবারের মত এবারও আসন্ন রমজান উপলক্ষে ভোগ্যপণ্য আমদানি ও বাজারজাতে বাড়তি গুরুত্ব রাখছে তারা। ৫০ বছরে পদার্পন উপলক্ষে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের মুখোমুখি হন মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান।
মোস্তফা কামাল বলেন, ‘যে সব পণ্য আমদানি নির্ভর, সেগুলো আমদানির ওপর নির্ভর করে। বিশ্ববাজারে এখন অনেক কিছুরই দাম কমে এসেছে, অনেকটাই সহনীয় হয়েছে। দাম কম বেশি হতে পারে কিন্তু মাল পাওয়া যায় না এমন কিছু হয়নি। আর রমজানেও আশা করি এ ধরনের কিছু হবে না।’
ভোগ্যপণ্যের বাজারে মিলারদেরই সিন্ডিকেট ও প্রভাব, এমন অভিযোগ ভোক্তাদের। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখে বড় শিল্পগ্রুপগুলোকে।
মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ভোক্তা পর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে এই সিন্ডিকেট আছে কিনা আমার জানা নেই। ভোক্তা পর্যায়ে সরকারকে আরেকটু তৎপর হতে হবে। আমাদের হোলসেল প্রাইজের চেয়ে খুচরা দামে পার্থক্য অনেক বেশি। কালকে পত্রিকায় লিখেছে, চিনি আমরা ১১৪ টাকায় বিক্রি করি, খুচরায় এখনও ২০–২৫ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি কেজিতে ১০ টাকা ১১টাকা পার্থক্য আমার মনে হয় অনেক বেশি।’
দেশে ব্যবসার পরিবেশ এখনো চ্যালেঞ্জিং, সরকারি সেবা সংস্থাগুলোর মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি বলে দাবি করেন এই শিল্পোদ্যোক্তা।
মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ব্যবসার পারমিশনের জন্য যে বিষয়গুলো আছে, এগুলো দ্রুত করে দেওয়া। তারপরে ধরেন অবকাঠামো, সবচেয়ে বড় কথা হলো বিদ্যুৎ ও গ্যাস নাই। ইনফ্রাস্ট্র্যাকচার, বিদ্যুৎ, গ্যাস, কমিউনিকেশন এগুলো সঠিক না করলে আপনারা আমাকে বলবেন, আমি ওনাকে বলব ব্যবসা কর, কর্মসংস্থান কর। কিন্তু এটা তো একটার সাথে আরেকটার সম্পৃক্ততা আছে।’
তিনি জানান, মেঘনা গ্রুপের ৫৪ টি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে ৫০ হাজারের বেশি শ্রমিক। বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা।



