একাধিক বৈঠকের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ফলে জুন মাসে আইএমএফের ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বুধবার। এদিন বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের সঙ্গে ঋণ ছাড় সংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়টি জানানো হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘কয়েক দফা এখানে এসে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, এনবিআরসহ বিভিন্ন স্টেকের সাথে তারা (আইএসএফ) কথা বলেছে। এক্ষেত্রে তাদের যে সব শর্ত ছিল, সেগুলো খোলাসা করেছে। এ ব্যাপারে দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর ধারণা করা হচ্ছে, আইএমএফ ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যে অচলায়তন ছিল, তার অবসান হবে।’
ডলারের বিনিময় হার বাজার ভিত্তিক করার বিষয়ে মতবিরোধ থাকায় এতদিন ঋণের কিস্তি আটকে ছিল।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে ২০২২ সালে আইএমএফের দ্বারস্থ হয় তৎকালীন সরকার। সে-সময় নানা শর্ত জুড়ে দিয়ে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন দেয় সংস্থাটি। পরে ৩ কিস্তিতে ছাড় হয় ২৩১ কোটি ডলার।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ঘুরে যায় আইএমএফ মিশন। সে সময় ডলারের বাজার-ভিত্তিক বিনিময় হার নির্ধারণ না করা, ৬৩ হাজার কোটি টাকার বাড়তি রাজস্ব আদায় করতে না পারা আর ভর্তুকি কমানোর প্রশ্নে অসন্তোষ প্রকাশ করে মিশন। শঙ্কা তৈরি হয় ঋণের বাকি অর্থ ছাড় নিয়ে।
সবশেষ এ মাসেও ঢাকায় আসে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল। তাদের ১২ দিনের সফরও শেষ হয় কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়া। এতে সংস্থাটির ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি পাওয়া যাবে কি-না তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দেখা দেয়।
গত ২০ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইএমএফের ঋণপ্রাপ্তির বিষয়টা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ যতগুলো শর্ত পূরণ করার কথা ছিল, প্রতিটিরই অগ্রগতি আছে, কিন্তু কোনো কোনো শর্ত আমরা লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জন করতে পারি নি। এগুলোর সবই যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইস্যু তা নয়, কিছু কিছু রাষ্ট্রীয় ইস্যুও আছে।’
এর পর গত ২৯ এপ্রিল অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, বাংলাদেশ এখন আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ওপর নির্ভর করে না।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আইএমএফ যে শর্ত দিয়েছে, এর সবগুলো বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করবে না। আমাদের স্বার্থই আমরা দেখব। তারা অযৌক্তিকভাবে যদি ঋণ না দেয়, তাদের সমস্যা।’


আইএমএফের ঋণ: পর্যালোচনার পর ফের আলোচনার প্রস্তাব
আইএমএফের ঋণ: কঠোর শর্ত মানতে নারাজ বাংলাদেশ ব্যাংক
