গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছে শিল্পকারখানাগুলো। এছাড়া ব্যাংকঋণের চড়া সুদের হার, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তো আছেই। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে আগামী বাজেটে করপোরেট কর কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের।
তবে, শর্ত শিথিল করা হলেও, করপোরেট করের হার কমানো হচ্ছে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সরকারের নীতি নির্ধারকরা।
ব্যাংক ঋণের চড়া সুদহার, পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাব ও এলসি সংক্রান্ত জটিলতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য। বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ২৬ শতাংশ। ফলে, নানামুখী চাপে উদ্যোক্তারা।
এছাড়া আছে উচ্চ করপোরেট কর। বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে শর্ত সাপেক্ষে করপোরেট করের হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। অন্যদের ক্ষেত্রে এই হার সাড়ে ২৭ শতাংশ। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর ৪০ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা তো অনেক ওয়েভার বন্ধ করে দেবো। অনেক লো ক্যাটাগরি যারা পাচ্ছে তারা তো নিশ্চই খুশি হবে না।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি অর্থবছর করপোরেট কর কমানো হলেও, কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। এতে ব্যবসায়ীদের কোনো লাভ হয়নি। এবার তাই এক্ষেত্রে ছাড় চান তারা।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘করপোরেট করহার একটু কমাতে পারলে ভালো হয়। এতে বিদেশি বিনিয়োগটা বেশি হয়। অনেক যখন বিদেশি বিনিয়োগকারী আসে তারা জিজ্ঞেস করে, করপোরেট ট্যাক্স কত।’
ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘যৌক্তিকভাবে যদি একটা লেজিট রিজন দিয়ে তারা করেন তাহলে অবশ্যই এ জিনিসটা… সামনের দিকে আগাতে হলে রেভিনিউ বাড়াতে হবে।’
তবে, কর হার না কমিয়ে আদায়কৃত রাজস্ব দিয়ে কাঠামোগত পরিবর্তনের তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আমিনুর রহমান বলেন, ‘এই মুহূর্তে করপোরেট কর যা আছে এটা কমানোর মতো যথেষ্ট যুক্তি নাই। সরকারকে তো এই জায়গায় বিনিয়োগগুলো করতে হবে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য। সেটার জন্য তো রাজস্ব আসতে হবে। তা না হলে তো এই যে অবকাঠামোগুলোর যে উন্নয়ন, সেটা তো করা যাবে না।’
বিনিয়োগে গতি আনতে, স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও ব্যবসার পরিবেশ তৈরির আহ্বান উদ্যোক্তাদের।



