দেশের মোট বিদ্যুতের ১২ ভাগের যোগান দেয় তরল জ্বালানি নির্ভর কেন্দ্রগুলো। কিন্তু মোট খরচের ৩০ ভাগই যায় এমন বিদ্যুতে। যা সরকারের ওপর বরাবরই ভর্তুকির চাপ বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে কম সময়ের মধ্যেই অতিরিক্ত খরচের কেন্দ্রগুলোর বোঝা কমানো সম্ভব।
২০২৩-২৪ অর্থবছর প্রায় ৯৬ হাজার মেগাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, যার মধ্যে ফার্নেস ওয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে পাওয়া যায় ১১ হাজার ৩৫৭ মেগাওয়াট ঘণ্টা এবং ডিজেল থেকে ৪৪০ মেগাওয়াট ঘণ্টা। পিডিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঐ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানিতে খরচ হয় ৮৫ হাজার ২২১ কোটি টাকা, যার মধ্যে ফার্নেস ওয়েল ও ডিজেলে খরচ ২৫ হাজার ৪৩৪ কোটি।
প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ যখন ১২ টাকা, তখন তরল জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রে গড়ে ইউনিটপ্রতি খরচ ২৬ টাকার বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, গড়ে দেড় হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত খরচের বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে ৩ হাজার মেগাওয়াটের সৌর প্যানেল স্থাপন করতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, ‘প্রতি ইউনিট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ যদি আনি, ঠিক একটা ইউনিট অব তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কমে যায়। সো, এটার ব্যাপারে আমরা কেন বসে আছি? এখনো আমরা ৭০০ মেগাওয়াটে সারা দেশে পড়ে আছি। দুই বছর ধরে আমরা বলছি, আমাদের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাড়ানো দরকার। কিন্তু আমরা সেই হারে বাড়াতে পারছি না। মুখে অনেক কথা শুনছি।’
গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি হয় ৯ টাকার নিচে। অন্যদিকে উৎপাদন খরচ ১২ টাকা। তাই বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি গুণতে হয় সরকারকে। জ্বালানির দাম বাড়লে বাড়ে ভর্তুকির চাপও। অন্যদিকে গবেষকরা বলছেন, প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি হওয়ায় কম খরচে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব।
আইইইএফএ বাংলাদেশ প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা যদি ভর্তুকির চাপ কমাতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো ব্যবহার কমাতে হবে। একটা উপায় হচ্ছে, দিনের বেলা পিক আওয়ারে আমরা সর্বোচ্চ সোলার ব্যবহার করতে পারি কিনা। ২-৩ হাজার মেগাওয়াট যদি আমরা সোলার ব্যবহার করতে পারি পিক আওয়ারে, তাহলে আমরা এই ব্যবহার কমাতে পারব।’
দেশে এখন ব্যবহৃত বিদ্যুতের ২ শতাংশ মিলছে সৌর, বায়ু, জলশক্তির মত নবায়নযোগ্য খাত থেকে, যা ২০৩০ সাল নাগাদ ২০ শতাংশে নিতে চায় সরকার।



