চলতি অর্থবছরে দেশের মোট জিডিপি ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি। আজ মঙ্গলবার সংস্থার হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়। সংস্থাটি বলছে, রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিক অস্থিরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি-এই চার কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে।
গেল অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। যা গত দুই দশকের সর্বনিম্ন। বিনিয়োগও এখন এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় আশার কথা জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি। সংস্থাটির প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছর শেষে প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ, যা অর্থবছর শেষে ৫ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে।
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে উঠে এসেছে, দেশের পোশাক রপ্তানি এখন স্থিতিশীল রয়েছে। তবুও প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতির মূল কারণ রাজনৈতিক পট পরিবর্তন। এডিবির মতে, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এডিবি বলছে, কৃষি ও সেবা খাত প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধির গতি টেনে ধরবে।
এডিবি আরও বলেছে, চলতি অর্থবছরে ভোগ্যব্যয় বাড়বে। এ ছাড়া আসন্ন নির্বাচনসংক্রান্ত নানা ধরনের খরচের কারণেও ব্যয় বাড়বে। তৈরি পোশাক রপ্তানি স্থিতিশীল থাকলেও শিল্প খাতে শ্রমিক অস্থিরতা, ঘন ঘন বন্যা এবং মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এসবের প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে।
এডিবির আশঙ্কা, দেশে মূল্যস্ফীতি চলতি অর্থবছরে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। পাইকারি বাজারে কম প্রতিযোগিতা, বাজার তথ্যের অভাব, সরবরাহ সমস্যা এবং টাকার দুর্বলতাই এর কারণ বলছে সংস্থাটি।



