জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দুর্যোগ সহনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও সুপেয় পানি নিশ্চিতে অর্থ সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি। ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় কাজ চলছে দুটি প্রকল্পের। সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর বলছেন, বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে এডিবি। প্রকল্প সফল হলে আগামীতে বাড়বে সহযোগিতার পরিমাণও।
খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা এলাকা। উপকূলীয় অঞ্চলে পানির অভাব না থাকলেও সুপেয় খাবার পানির জন্য দুশ্চিন্তা করতে হয় এখানকার বাসিন্দাদের। রান্না কিংবা নিত্য ব্যবহারের পানির ক্ষেত্রেও একই সমস্যা থাকে সারাবছর।
সমস্যা সমাধানে এ এলাকায় সরকার ও এডিবির সহায়তায় সংস্কার করা পুকুরগুলোতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা হচ্ছে। গোসল, রান্না ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হয় এ পানি। সাড়ে ৯ বর্গকিলোমিটারের চালনা পৌরসভার ৩১ হাজার বাসিন্দার জীবনযাত্রা পরিবর্তন এসেছে দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে।
একইভাবে জলাবদ্ধতা কমাতে ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে ৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। সুইচ গেট দিয়ে নদীর নোনাজল আটকানো হয়েছে। এতে এখানকার কৃষি জমিতে ভালো ফসল হচ্ছে। নতুন রাস্তা ও সেতু নির্মাণে সহজ হয়েছে দৈনন্দিন জীবন। জলবায়ুর অভিঘাতের ঝুঁকিতে থাকা পটুয়াখালী পৌরসভায় টেকসই সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে। এখানকার রাস্তা, ড্রেন সঠিকভাবে নির্মাণে বর্ষায় পানি জমে থাকে না।
উপকূলীয় ২২টি শহরে বাস্তবায়ন হচ্ছে এডিবির কোস্টাল টাউন ক্লাইমেট রেজিলেন্স প্রকল্প। জলবায়ুর অভিঘাত থেকে রক্ষা করে স্থানীয় মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তায় আগ্রহী এডিবি। প্রকল্পের আওতায় যেসব উন্নয়ন হয়েছে তা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করবে। তবে টেকসই সুফল পেতে এগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রকল্পটিতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে এডিবি। বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ।
জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান। প্রতিবছর জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে বরিশাল, খুলনার মানুষ ও প্রকৃতি। সমস্যা সমাধানে সরকারের পাশাপাশি দরকার উন্নয়ন সংস্থার আন্তরিকতা, অভিমত বিশেষজ্ঞদের।



