১৫ মাসে বিভিন্ন সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধর্মঘটে অন্তত ১৯ দিন বন্ধ ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম। এছাড়া গত ২ ঈদের ছুটিতে টানা ১০ দিন করে ২০ দিন বন্ধের চাপও সামলাতে হয়েছে বন্দরকে। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি এই বন্দরের এমন বেহাল পরিস্থিতিতে অনেকটা দিশেহারা ব্যবহারকারীরা।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বন্দর কেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মালিকানা এবং নেতৃত্ব নিয়ে নানামুখী বিরোধ দেখা দেয়।
একই বছরের ডিসেম্বরে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটে বন্দরের বর্হিনোঙ্গরে দুইদিন পণ্য খালাস বন্ধ থাকে। এতে পণ্য খালাস বন্ধ ছিল ২০টি বড় জাহাজে। ২০২৫ সালের মে এবং জুন মাসে এনবিআর সংস্কারের প্রতিবাদে ২ দফা শাটডাউন কর্মসূচিতে আটকে যায় প্রায় ৭ হাজার আমদানি-রপ্তানি নথি।
মে মাসে প্রাইমমুভার শ্রমিক-মালিকদের ধর্মঘটে জাহাজীকরণ করা যায়নি হাজার খানেক কন্টেইনার। বন্দরে প্রবেশ ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে অক্টোবরে আবারও দুইদিনের ধর্মঘটে যায় তারা।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে এমন পরিস্থিতির নেতিবাচক মাসুল গুণতে হচ্ছে দেশের আমদানি-রপ্তানি খাতকে।
চট্টগ্রাম সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের জন্য আজকে যে মাইলফলক ছিল যে আমরা অতিরিক্ত কাজ করি, আমাদের কার্যক্রমের কোনো সীমা থাকে না। শুধু চট্টগ্রাম বন্দরে যাতে জট না হয় সে জন্য আমাদের শ্রমিকেরা অনবরত পরিশ্রম করেছে গত ঈদের পর থেকে।’
বিকডার সদস্যসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, ‘প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার রপ্তানিপণ্যবাহী কনটেইনার স্টক থাকে। ওইটা আমাদের ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজারে গিয়ে পৌঁছেছে। এই ভলিউমটা আমাদের টোটাল অপারেশনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
চট্টগ্রাম বন্দরে নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত অর্ধশতাধিক সংগঠন ও সংস্থা। এসবের একটিতে অসন্তোষ দেখা দিলে প্রভাব পড়ে পুরো বন্দরে।
বিজিএমইএ এর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি যদি পিছিয়ে পড়া বন্দরে পড়ে থাকি, তাহলে স্বাভাবিকভাবে আমি ব্যাবসায়িকভাবে পিছিয়ে যাবো। কারণ আমার বন্দরটা একটু ব্যয়বহুল হবে। ব্যয়বহুল হলে স্বাভাবিকভাবে কাস্টমারের ওপর একটা চাপ আসবে। আমরা যারা ব্যবসা করি তাদেরও কস্ট অব ড্যামারেজ বাড়বে। এটি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।’
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘এই জায়গাগুলোতে যদি আমরা সেইভাবে কন্ট্রোল করতে পারি এবং তাদের যে চাহিদাগুলো আছে সেগুলোকে যদি আমরা আগাম চিন্তা করে তাদের সাথে বসে যদি সমাধান করতে পারি, তাহলে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা খুব বেশি কঠিন না।’
গত কয়েকদিনের কর্মবিরতিতে বন্দরে দেখা দেয় সাড়ে ৫৪ হাজার কন্টেইনার জট।



